সৈয়দ রুবেল ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধিঃ ঝালকাঠি সদর উপজেলার বাউকাঠি থেকে ভিমরুলী বাজার পর্যন্ত চার কিলোমিটার খালের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন ও পনি উন্নয়ন বোর্ড অধিদপ্তর।২৩/১২/২০১৯ইং তারিখ সোমবার সকালে জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলীর নেতৃত্বে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।
এসময় খালের দুই পাশে অবৈধভাবে গড়ে উঠা ১৫টি বসতঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভেঙে স্থাপনা সরানো হয়।
এর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে নোটিশ পাঠানো হয়েছিলো । যারা নোটিশ জারির পরেও অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেয়নি, তাদের বসতঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভেঙে ফেলা হয়।
উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনাকালে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এস এম ফরিদ উদ্দিন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আতাউর রহমান, সহকারী কমিশনার (ভুমি) জহিরুল ইসলাম, এনডিসি আহমেদ হাসান ।
জেলা প্রশাসক জহর আলী বলেন, ছোট নদী, খাল এবং জলাশয়ে পানি প্রবাহ সচল রাখতে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আপেল মাহমুদ,নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর মান্দায় জাহাঙ্গীর আলম (৩০) নামে এক ইটভাটা শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার দাসপাড়া এলাকায় স্থাপিত এআরএম ব্রিক্স নামের একটি ইটভাটায় বোরবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর থেকে ওই ভাটার ম্যানেজারসহ সকল শ্রমিকরা গা ঢাকা দিয়েছে। নিহত জাহাঙ্গীর আলম উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের দাসপাড়া গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, নিহত জাহাঙ্গীর আলম ওই ভাটায় কাজ করার জন্য রোববার রাতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। রাত সাড়ে ৩টার দিকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে জাহাঙ্গীরের মৃত্যু হয়েছে বলে পরিবারকে জানানো হয়। এরপর পরিবারের লোকজন ওই ভাটা থেকে তার লাশ উদ্ধার করে। ঘটনার পর থেকে ভাটার শ্রমিকরা গা ঢাকা দিয়েছে বলেও জানান তারা। লাশের গলায় গভীর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।
সোমবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় নিহত জাহাঙ্গীরকে দাফনের প্রস্তুতি চলছে। গোসলের পর কাফন পরিয়ে লাশ খাটিয়াতে রাখা হয়েছে। কবর খননসহ যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে ইতোমধ্যে। স্থানীয়দের দাবি, ভাটায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর কোন কারণ নেই। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। তাদের অভিযোগ, প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দিতেই ভাটামালিক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কাজেম উদ্দিন ও তার লোকজন নিহতের পরিবারকে ম্যানেজ করে তড়িঘড়ি লাশ দাফনের চেষ্টা করছেন।
মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাফফর হোসেন বলেন, ঘটনার সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নওগাঁ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় থানার একটি ইউডি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পেলেই তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
আশরাফ হোসেন পল্টু,মাগুরা প্রতিনিধি ঃ পূর্ব ঘোষনা অনুযায়ি মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের সরকারি জমিতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা কাঁচা-পাকা দোকান ঘর ও অবৈধ স্থাপনা অপসারণ ও উচ্ছেদ অভিযান গতকাল সোমবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত মাগুরা পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসন যৌথভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন । সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়,উপজেলার সাচিলাপুর বাজার, গোয়ালদাহ, কোদলা, টিকারবিলা, আমলসার, লাঙ্গলবাধঁ, জোকা, গয়াশপুর, শ্রীপুর, কাজলী, বরইচারা, নাকোলসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডে সরকারি খাল ও খাল পাড়ের হাজার হাজার হাজার একর সরকারি জমি জবর-দখল নিয়ে এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি অবৈধভাবে গড়ে তুলেছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও পাকা স্থাপনা । সরকারের চোখ ফাঁকি দিয়ে এসব ব্যক্তি অবৈধ স্থাপনা ভাড়া দিয়ে বা নিজেই ব্যবহার করে প্রতিমাসে আয় করছে লক্ষ লক্ষ টাকা । এছাড়াও খাল ও নদী দখল করে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলার কারণে একদিকে যেমন খাল ও নদীর পানি প্রবাহে বাঁধা প্রাপ্ত হচ্ছে অপরদিকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও বিনষ্ট হচ্ছে । বিষয়টি ভেবে গত কয়েকদিন ধরেই মাগুরার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর নির্দেশে মাইক ও বিভিন্ন প্রচার মাধ্যম এবং লিখিত নোটিশের মাধ্যমে অবৈধ স্থাপনা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অপসারনের লক্ষে বারংবার অবৈধ দখলদারদের অবগত করা হয় ।
কিন্ত অবৈধ দখলদাররা বিষয়টি কর্ণপাত না করায় গতকাল সোমবার মাগুরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সারোয়ার জাহান সুজন ও জেলা প্রশাসনের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ কাওছার হাবীব এর নেতৃত্বে সাচিলাপুর বাজার, গোয়ালদাহ বাজার, টিকারবিলা বাজার ও আমলসার বাজারে যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে শতাধীক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয় । এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত থেকে উচ্ছেদ অভিযানে সহযোগিতা করেন সহকারি প্রকৌশলী জি.এম রাইসুল ইসলাম, উপ-সহকারি প্রকৌশলী নাঈমুর রহমান ও উপ-সহকারি তৌফিকুর রহমান ।
এবিষয়ে মাগুরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সারোয়ার জাহান সুজন বলেন,সারা বাংলাদেশের অবৈধ উচ্ছেদ অভিযানের ন্যায় মাগুরার জেলার শ্রীপুর উপজেলার সাচিলাপুর বাজার,গোয়ালদাহ বাজার,টিকারবিলা বাজার,আমলসার বাজারে দিন ব্যাপী এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয় । ভবিষ্যতেও এ অভিযান চলমান থাকবে ।
তবে উচ্ছেদ অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বে নিয়োজিত রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ কাওছার হাবীব এবিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
মোঃ সম্রাট আলাউদ্দিন (ধামরাই প্রতিনিধি) : গ্রাম পুলিশের চাকরি সরকারি করণের হাইকোর্ট নির্দেশ দেওয়া সে সঙ্গে চতুর্থ শ্রেণির স্কেলের সমমর্যাদায় তাদের বেতন দেয়ারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার মন্ত্রালয়কে। এ রায়ের ফলে দেশের ৪৭ হাজার গ্রাম পুলিশ বাড়তি সুযোগ-সুবিধা পাবেন বলে আজ সোমবার (২৩ডিসেম্বর) বেলা ১২টার দিকে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা এবং তদন্ত ওসি কামাল হোসেন কে ফুলের শুভেচ্ছা দেওয়া হয়।উল্লেখ্য থাকে যে গ্রাম পুলিশের কুশুরা ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার মোঃ লাল মিয়া গ্রাম পুলিশের পক্ষে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করে। সেই রিট বিচারপতি আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি রাজিক আল জলিল সেটা আমলে নিয়ে রিট শুনানী শেষে গত ১৫/১২/১৯ তারিখে রোজ রবিবার এ বিষয়ে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে বিচারপতি আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।এই ব্যাপারে ধামরাই উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদের দফাদারদের সভাপতি মোঃ লাল মিয়া বলেন, আমাদের দেশের বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে দফাদার ও মহলদার হিসেবে কর্মরত গ্রাম পুলিশের সংখ্যা প্রায় ৪৬ হাজার। এদের মধ্যে দফাদারদের মাসিক বেতন ৩ হাজার ৪০০ টাকা। আর মহলদারদের বেতন ৩০০০ টাকা। গ্রাম পুলিশের চাকরি
সরকারের রাজস্ব খাতে অন্তরর্ভুক্ত না হওয়ায় এই বেতনের অর্ধেক দেয় ইউনিয়ন পরিষদ আর সরকারের কোষাগার থেকে আসে বাকিটা।তিনি আর বলেন
ব্রিটিশ আমল থেকে এ বাহিনী বিভিন্ন আইনের অধীনে কাজ করে আসছে। সর্বশেষ স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ সালের অন্তরর্ভূক্ত করা হয়। এ আইনের অধীনে ২০১৫ সালে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) গ্রাম পুলিশ বাহিনীর গঠন, প্রশিক্ষণ, শৃংখলা ও চাকুরির শর্তাবলী সম্পর্কিত বিধিমালা তৈরি করা হয়।
কিন্তু এ বিধিতে তাদের কোনো শ্রেণি নির্ধারণ করা হয়নি। এদিকে ২০০৮ সালের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় গ্রাম পুলিশদের চতুর্থ শ্রেণির স্কেল নির্ধারণে অর্থ বিভাগকে চিঠি দেয়। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় পরে আমি বাদী হয়ে হাইকোর্টে রিট করি।
সেই রিটে চাকরি রাজস্ব খাতে অন্তরর্ভুক্তি, সরকারি বেতন কাঠামোর চতুর্থ শ্রেণির সমমর্যাদা, মানসম্মত পোশাক, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতো রেশন চালু ও ঝুঁকি ভাতা প্রদান, প্রত্যেক বিভাগে একটি করে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন এবং গ্রাম পুলিশের সন্তানের জন্য সরকারি চাকরিতে কোটা সংরক্ষণের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচিতে আন্দোলনের পর গ্রাম পুলিশরা প্রতিকার পেতে উচ্চ আদালতে আসি।
পরে ধামরাই ইপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সামিউল হক গ্রাম পুলিশদের ধন্যবাদ জানিয়ে শুশৃংখল ভাবে নিষ্ঠার সাথে প্রত্যেককে কাজ করতে বলেন।
আশরাফ হোসেন পল্টু,মাগুরা প্রতিনিধি : মাগুরার শ্রীপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আজ রবিবার দুপুরে ৪১তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ,বিজ্ঞান মেলা এবং অলিম্পিয়াড আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন ঘোষনা করা হয়েছে।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইয়াছিন কবীর এর সভাপতিত্বে সাংবাদিক আশরাফ হোসেন পল্টুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ আবুল কালাম আজাদ,উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নারগিস সুলতানা,ভাইচ চেয়ারম্যান কাজী জালাল উদ্দিন,মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ তারিকুল আলম,শ্রীপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ নির্মল কুমার সাহা,উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোছাঃ তাহমিনা আফরোজ,খামারপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাফিজুর রহমান,শ্রীপুর সরকারি এম,সি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শামীমুল ইসলাম,শ্রীপুর থানার এস,আই মোঃ হামিদুল ইসলাম,সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইকরাম আলী বিশ্বাস প্রমূখ ।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকবৃন্দ,সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ ।
মেলায় উপজেলার কলেজ ও মাধ্যমিক পর্যায়ের ২১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উদ্ভাবনী আবিস্কার প্রদর্শন করেন। আলোচনা সভা শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইয়াছিন কবীরসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ মেলার ষ্ট্রল ও ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের প্রদর্শিত উদ্ভাবনী আবিস্কারগুলো নিঁখুতভাবে পর্যবেক্ষণ করেন ।
পরিশেষে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত হয় এক মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
মৃধা শাহীন শাইরাজ, তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি :বরগুনার তালতলীতে আগুন পোহাতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে সুগন্ধা রানী (২৪) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার চরপাড়া গ্রামের নিমাই শীলের স্বামী পরিত্যাক্তা মেয়ে সুগন্ধা রানীর রবিবার ভোর রাতে ঢাকার বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীণ অবস্থায় মৃত্যু হয়।
পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে, শৈত্য প্রবাহের কারনে কনকনে শীতে উপজেলার চরপাড়া গ্রামের নিমাই শীলের স্বামী পরিত্যাক্তা মেয়ে সুগন্ধা রানী শনিবার সকালে বাড়ীর আঙ্গিনায় আগুন পোহাতে ছিল। হঠাৎ করে ওই আগুন পড়নের কাপড়ে লেগে সমস্ত শরীরেই আগুন ছড়িয়ে পরে। এতে তার শরীর ঝলসে যায়।
গুরুতর অবস্থায় সুগন্ধা রানীকে উদ্ধার করে বরিশাল সেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে তাৎক্ষনিক ঢাকার বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। বঙ্গবন্ধু হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীণ অবস্থায় সুগন্ধা রানীর রবিবার ভোর রাতে মৃত্যু হয়।
আপেল মাহমুদ ,নওগাঁ প্রতিনিধি :নওগাঁর মান্দা উপজেলার ফেরিঘাট হতে পাঁঠাকাটা পর্যন্ত রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এ রাস্তা দিয়ে চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে বিভিন্ন ধরণের যানবাহন। মাঝে মধ্যেই ঘটছে দুর্ঘটনা। এ অবস্থায় রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।স্থানীয়রা জানান, আত্রাই নদীর বন্যানিয়ন্ত্রণ এ বাঁধের সংস্কার নেই দীর্ঘদিন। ফলে রাস্তার পিচ উঠে গিয়ে ছোটবড় অনেক খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। দু’ধার ভেঙে গিয়ে সংকুচিত হয়ে পড়েছে পাকা রাস্তাটি। অহরহ ঘটছে দুর্ঘটনা।
তারা আরও জানান, প্রতিদিন এ রাস্তা দিয়ে ট্রাক্টর, ভটভটি, অটোরিকশা, ভ্যান, বাইসাইকেল, মোটরবাইকসহ অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে। ঝুঁকিপূর্ণ এ রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে অনেকেই পুঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।
এ অবস্থায় রাস্তাটি জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের দাবিতে স্বোচ্চার হয়ে উঠেছেন স্থানীয়রা। এ লক্ষে রোববার দুপুরে উপজেলার দোসতিনা গ্রামের অহিদ উদ্দিন উকিলের উঠানে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক মির্জা মাহবুব বাচ্চু, শিক্ষানবিশ আইনজীবী সোনিয়া সিমু, এনজিও কর্মি রওশন আরা, অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আব্দুর রহিম, সোহেল আহমেদ তুফান প্রমুখ।
মতবিনিময় সভায় রাস্তাটি সংস্কারের দাবিতে আগামিতে মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হবে বলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। রোববার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে রোববার (২২ ডিসেম্বর) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা।
ওইদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। পুরো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম)।
সিইসি কেএম নূরুল হুদা জানান, মনোনয়ন দাখিলের শেষ সময় ৩১ ডিসেম্বর, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ২ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহার ৯ জানুয়ারি। প্রতীক বরাদ্দ ১০ জানুয়ারি। আর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ৩০ জানুয়ারি।
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হয়। ওই নির্বাচনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আনিসুল হক আর দক্ষিণে সাঈদ খোকন নির্বাচিত হন। ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর মেয়র আনিসুল হক মারা যাওয়ায় মেয়র পদটি শূন্য হয়। এরপর চলতি ২৮ ফেব্রুয়ারি উত্তর সিটির উপ-নির্বাচনে মেয়র হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতিকুল ইসলাম।
স্টাফ রিপোর্টারঃ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি আগামী মঙ্গলবার ঘোষণা করা হতে পারে। রবিবার সচিবালয়ে নবনির্বাচিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আগামী মঙ্গলবার আমাদের প্রেসিডিয়াম মিটিং আছে, এর মধ্যে একটা খসড়া প্রস্তাব ও প্রেসিডিয়ামে আলাপ-আলোচনার পর সেদিনই পূর্ণাঙ্গ কমিটি আশা করছি।ওবায়দুল কাদের বলেন, কমিটিতে এখন অর্গানাইজিং সেক্রেটারি, ধর্ম সম্পাদক, শিল্প-বাণিজ্য কোষাধ্যক্ষ, অর্থ সম্পাদক, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এ কয়টি পদ আছে। আর নিচের দিকে পুরো ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা বাকি।
পুরোটা ঘোষণা হলে পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেয়ে যাবেন।
গত ২০ ও ২১ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় কাউন্সিল শেষে শেখ হাসিনাকে টানা নবমবারের সভাপতি এবং ওবায়দুল কাদের দ্বিতীয়বার সাধারণ সম্পাদক করে ৮১ সদস্যের মধ্যে ৪২ জনের নাম জানিয়ে দলের কমিটি ঘোষণা করা হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদন ঃ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী ও দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।আজ শনিবার রাতে মিন্টো রোডের মন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে এ শুভেচ্ছা জানানো হয়।
তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, তথ্য সচিব আবদুল মালেক, বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যম প্রতিনিধিবৃন্দ, মন্ত্রীর সংসদীয় আসনের বিভিন্ন এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, স্থানীয় জনগণ, তথ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মচারিবৃন্দ ড. হাছান মাহমুদকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান।
এছাড়াও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা শাহাজাহান শিকদার, ইফতেখার হোসেন বাবুল, জসীম উদ্দিন, বেদারুল আমল চৌধুরী বেদারসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা নবনির্বাচিত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদককে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
শনিবার দলটির ২১তম সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন আওয়ামী লীগের নতুন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন মাহবুবুল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, ড. হাছান মাহমুদ ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।
রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের হলরুমে অনুষ্ঠিত কাউন্সিল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন দলের নবনির্বাচিত সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সাথে ছিলেন আওয়ামী লীগের পুনঃনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
টানা তৃতীয়বারের মতো চট্টগ্রাম ৭ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ড. হাছান এর আগে দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং আওয়ামী লীগের সম্পাদকমন্ডলীর বয়ঃকনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
ড. হাছান মাহমুদ স্কুল জীবনেই বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। দীর্ঘ আন্দোলন- সংগ্রামের রাজনৈতিক জীবনে তিনি বারবার মৌলবাদী অপশক্তি ও স্বাধীনতা বিরোধীদের দ্বারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, এমনকি কয়েকবার তার প্রাণনাশেরও চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু কোন রক্তচক্ষু হাছান মাহমুদকে তার সংগ্রামের পথ থেকে পিছু হটাতে পারেনি। ড. হাছান মাহমুদের মধ্যে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং মেধার অপূর্ব সমন্বয় রয়েছে। তাঁর সফল নেতৃত্বের মাধ্যমে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে এবং বিদেশেও তিনি রাজনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন।
চট্টগ্রামের সরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত সময়ে তিনি বয় স্কাউটের দলনেতা ছিলেন। জুনিয়র রেডক্রস টিমেরও সদস্য ছিলেন। আন্তঃবিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগতায়ও তিনি স্কুলের বিতর্ক দলের দলনেতা হিসেবে ভূমিকা রেখেছিলেন।
১৯৮৭ সালে তিনি জাতীয় টেলিভিশন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক দলের দলনেতা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি ১৯৭৭ সালে প্রথমে চট্টগ্রাম শহরের জামালখান ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাথে যুক্ত হন। তিনি ১৯৭৮ সালে সরকারি ইন্টারমিডিয়েট কলেজে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি ১৯৭৯ সালে সরকারি হাজী মহসিন কলেজে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
তিনি চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের শিক্ষা ও পাঠক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি ১৯৮৬ সালে ছাত্রলীগের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৮৭ সালে তিনি সামরিক শাসক এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় গ্রেফতার হন।
পরে তিনি ১৯৮৮ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন তাঁর সুদক্ষ নেতৃত্বের মাধ্যমে, নব্বই’র দশকের শুরুতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নির্বাচনে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য বিপুল বিজয় লাভ করে। সেই নির্বাচনের সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে বেরিয়ে যাওয়ার কারণে নিবার্চনে প্রার্থী হতে না পারলেও তিনিই ছিলেন সেই নিবার্চনে সব প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন ও ছাত্রদলের সমন্বয়ে গঠিত সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান।
১৯৯২ সালের শুরুর দিকে, আওয়ামী লীগ চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার কার্যকরী সংসদের সবচেয়ে নবীনতম সদস্য মনোনীত হন।
১৯৯২ সালে তিনি উচ্চতর শিক্ষার জন্য বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে যান। সেখানে তিনি ১৯৯৩ সালে ব্রাসেলস’র বাংলাদেশ ছাত্র সংসদের সভাপতি নির্বাচিত হন।
ইউরোপের একটি শীর্ষ র্যাংকিং ইউনিভার্সিটিতে ব্রাসেলসের ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ১৯৯৪ সালে তিনি ‘ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন অব দ্য ইউনিভার্সিটি’র সভাপতি নির্বাচিত হন, যা ৬০টি দেশের ১ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীর প্রতিনিধিত্ব করে।
বেলজিয়ামে ড. মাহমুদ ১৯৯৩ সালে বেলজিয়াম আওয়ামী লীগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে এবং ১৯৯৫ সাল থেকে মার্চ ২ হাজার পর্যন্ত বেলজিয়াম আওয়াামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ড. হাছান মাহমুদ ২০০১ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশের তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী এবং আওয়ামী লীগের সভাপতির বিশেষ সহকারী হিসেবে নিযুক্ত হন।
তিনি ২০০২ সালের ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের পরিবেশ ও বন বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত হন। তখন থেকেই তিনি আওয়ামী লীগের সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য।
২০০৭ সালে যখন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাকে সামরিক সমর্থিত সরকার কর্তৃক গ্রেফতার করা হয়, তখন ড. হাছান মাহমুদ, দলীয় সভাপতির মুখপাত্র হিসেবে অকুতোভয়ে কাজ করেন, যা দলের সকল কর্মী ও সমর্থকদের দ্বারা অত্যন্ত প্রশংসিত হয়।
২০০৮ সালে তিনি বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ।
২০০৯-২০১৩ সময়কালে তিনি পরিবেশ ও বন মন্ত্রী হিসেবে সরকারের মন্ত্রিপরিষদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এর আগে ড. হাছান মাহমুদ একই সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ড. হাছান মাহমুদ ২০০২ সালে আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটিতে বয়ঃকনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মনোনীত হন।
গতকাল শুক্রবার বর্ণিল আয়োজনে শেষ হয় আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। বিকেলে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।