28 C
Dhaka, BD
রবিবার, এপ্রিল ২৬, ২০২৬

রাণীশংকৈলে বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা ।

হুমায়ুন কবির, (ঠাকুরগাঁও) রাণীশংকৈল প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা পরিষদ হলরুমে ২৮ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে আসন্ন বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতি কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী আফরিদার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহরিয়ার আজম মুন্না। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সোহেল রানা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শেফালি বেগম। আরো উপস্থিত ছিলেন, অধ্যক্ষ তাজুল ইসলাম, এসআই রনি, অবসর প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল হামিদ, মহিলা আ’লীগ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা হবিবর রহমান প্রমুখ।

এছাড়াও বিভিন্ন ইউপি চেয়ারম্যানবৃন্দ, উপজেলা র্কমকর্তাবৃন্দ , শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা পরিষদ ও নির্বাহী অফিসার আসন্ন বিজয় দিবসটিকে যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে পালনের জন্য সংশ্লিষ্ট কমিটির সকলকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনসহ রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিবর্গের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

আলোচনার সভার এক পর্যায়ে বক্তারা বলেন ‘১৯৭১ সালে পাকিস্তানী বর্বর বাহিনীর নির্মম গণহত্যার এক নিষ্ঠুরতম ইতিহাস আজও ধারণ করে রেখেছে রাণীশংকৈলের ঐতিহ্যবাহী স্মৃতিবিজড়িত খুনিয়া দিঘী। অথচ দিঘীর পাড়ের মাটি কেঁটে বধ্য ভূমিরটির বর্তমান অবস্থা এমন করেছে যে, এটি যেকোন সময় ধঁসে পড়ে যেতে পারে। অধ্যক্ষ তাজুল ইসলাম বলেন, পাক হানাদারদের নির্মমতা এবং হাজারো বাঙালির রক্তে রাঙ্গানো খুনিয়া দিঘীর স্মৃতি ধরে রাখার তাগিদে ১৯৭২ সালে এ দিঘীর পাড়ে একটি স্মৃতি স্তম্ভ তৈরি করা হয়। এ সময় অন্যান্য বক্তারাও খুনিয়াদিঘির লিজকৃত জলকরটি বাতিলের দাবী জানান।

ইউএনও বলেন আমরা ইতোমধ্যে কাগজপত্র বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে পাঠিয়েছি। উপজেলা চেয়ারম্যান মুন্না বলেন, ‘লীজ বাতিলের জন্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। প্রসঙ্গত: উপজেলার হোসেনগাঁও ইউনিয়নের ভান্ডারা গ্রামের স্মৃতিবিজড়িত খুনিয়া দীঘি বধ্যভূমির জলকরটির মালিক দাবি করেন জৈনেক ব্যক্তি।

জানা গেছে তাঁর বাবা তৎকালীন দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে বন্দোবস্ত নিয়ে পরে দুই ছেলে হামাদুর রহমান ও বজলুর রহমানের নামে খুনিয়া দিঘির জলকরের দলিল করে দেয় পরে হামিদুর রহমান উপজেলার আবুল কাশেমের স্ত্রী ফাতেমা বেগমের কাছে ২৩ লাখ ৫০ হাজার টাকায় জলকরটি বিক্রি করেন।

মাগুরার শ্রীপুরে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন,অতপরঃ থানায়

আশরাফ হোসেন পল্টু,মাগুরা প্রতিনিধি : মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার সুন্দরপুর গ্রামে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে গিয়ে অনশন শুরু করেছেন জেসমিন নাহার (২২) নামে এক প্রেমিকা। প্রায় দু’মাস ধরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিয়ে না করার প্রেক্ষিতে জেসমিন আক্তার বুধবার দুপুরে তার প্রেমিক আমলসার ইউনিয়নের সুন্দরপুর গ্রামের জাফর মোল্ল্যার ছেলে মন্নু মোল্ল্যা (২৭) এর বাড়িতে গিয়ে অনশন শুরু করে। প্রায় ৬ বছর ধরে তাদের মধ্যে প্রেমজঃ সম্পর্ক চলে আসছে বলে মেয়েটি দাবি করেছে। এ ঘটনায় বুধবার রাতে জেসমিন নাহার এর পিতা আয়ুব আলী মোল্যা বাদী হয়ে প্রতারক প্রেমিক মন্নু মোল্ল্যাসহ পরিবারের ৫ জনের বিরুদ্ধে শ্রীপুর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বুধবার বিকেল ৩ টার দিকে মন্নু মোল্ল্যার বাড়িতে অসহায় জেসমিন নাহার প্রেমিক মন্নু মোল্ল্যার বাড়িতে অবস্থান করছে। এক প্রশ্নের জবাবে জেসমিন জানায়, প্রায় দু’মাস ধরে মন্নু বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আজ নয় কাল এভাবে কালক্ষেপণ করতে থাকে। একপর্যায়ে মেয়েটির চাপের মুখে প্রেমিক মন্নু তাকে জানায় যে, পিতা-মাতা তাদের এ বিয়েতে রাজি হচ্ছে না ।

তারপরও ছেলেটি মেয়েটিকে তার বাড়িতে চলে আসতে বলে এবং কোন সমস্যা হলে সে যেভাবেই হোক পরিবেশ ঠিক করে মেয়েটিকে বিয়ে করে ঘরে তুলে নিবে বলে আশা দেয়। এ আশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে মেয়েটি গত এক সপ্তাহ আগে প্রেমিক মন্নুর বাড়িতে গিয়ে হাজির হয়। তখন মন্নুর পিতা জাফর মোল্ল্যা মেয়েটিকে বলেন যে, এই মুহূর্তে তুমি তোমার বাড়িতে চলে যাও । আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে সামাজিকভাবে বিয়ে দিয়ে আমার বাড়িতে তুলে নিব। এই আশ্বাসের প্রেক্ষিতে মেয়েটির অভিভাবক মেয়েটিকে বাড়িতে নিয়ে যায়। জেসমিনের সাথে প্রেমিক মন্নুর বিয়ে হবে মর্মে ছেলে পক্ষ দু’এক দিনের মধ্যেই মেয়ে পক্ষের বাড়িতে বিয়ের সরঞ্জাম অর্থ্যাৎ নেরক্ষনও পাঠিয়ে দেন এবং বিয়ের দিনক্ষণও ঠিক হয়ে যায়। কিন্তু বিয়ের নির্ধারিত দিনেই পূর্বেই হঠাৎ করে প্রেমিক মন্নু ও তার পিতা-মাতা ঘর-বাড়িতে তালা লাগিয়ে মোবাইল ফোন বন্ধ করে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় । এঘটনা জানাজানি হলে প্রেমিক জেসমিন নাহার বিয়ের দাবিতে বুধবার বিকেলে প্রেমিক মন্নুর বাড়িতে গিয়ে হাজির হয়ে অনশন শুরু করে । এরপরই মেয়েটির পিতা কোন উপায় খুজে না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ঔইদিন সন্ধ্যায় তাকে প্রেমিক মন্নুর বাড়ি থেকে উদ্ধার করে শ্রীপুর থানায় হাজির হয়ে লম্পট মন্নুসহ পরিবারের ৫ জনের বিরুদ্ধে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করেন।

প্রেমিক মন্নুর বড় চাচা মুজিবর মোল্ল্যা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এই মেয়েটির সাথে দীর্ঘ দিন ধরে তার ভাতিজার সম্পর্ক চলছে বলে সবাই জানে। বিয়ে দেয়ার কথা বলে তার ভাই জাফর ও ভাতিজা মন্নু বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছে।

সুন্দরপুর গ্রামের পার্শ্ববর্তী গ্রামের বাসিন্দা শ্রীপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বদরুল আলম হিরো বলেন, ঘটনা আমি সবই জানি। এক সপ্তাহের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে দেওয়ার কথা বলে মন্নু ও তার পরিবারের লোকজন বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছে, যা অত্যন্ত দু:খজনক।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ওসি (তদন্ত) লিটন কুমার দাস বলেন, ঘটনা শুনার পরপরই অভিযুক্তের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল এবং ঘটনার সত্যতা পেয়ে বুধবার রাতেই প্রেমিক মন্নুসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে শ্রীপুর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রাজশাহীতে প্রশাসনের নাকের ডগায় চলছে ভূয়া ডাক্তারের জমজমাট ব্যবসা

সৌমেন মন্ডল,প্রতিনিধি : রাজশাহী মহানগরীতে ভুয়া হোমিও ডাক্তারের ছড়াছড়ি। প্রশাসনের নাকের ডগায় এ সব ভুয়া চিকিৎসক জমজমাট ব্যবসা করলেও নেয়া হচ্ছে না কোন পদক্ষেপ। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পাস না করে, হোমিওপ্যাথিক বোর্ডের রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাগ লাইসেন্স ছাড়াই নামের আগে ডা. লিখে চেম্বার খুলে বসেছেন অনেকে। এদের কারণে প্রকৃত হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারদের সুনাম নষ্ট হচ্ছে।অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজশাহী নগরীর আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে ভুয়া হোমিও ডাক্তারের চেম্বার ও ক্লিনিক। এর মধ্যে মতিহার থানার সামনেই চেম্বার খুলে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ডে চিকিৎসক হিসেবে রেজিস্ট্রেশন,ডিএইচএমএস পাসের সনদ,ড্রাগ লাইসেন্স ও ট্রেড লাইসেন্স ছাড়াই রোগীদের সাথে প্রতারনা করে দীর্ঘ ৭বছর ধরে ডাঃ নাজমুল হুদা চালিয়ে যাচ্ছন তার রমরমা চিকিৎসা ব্যবসা। চিকিৎসা সেবার কোন রকম সার্টিফিকেট ছাড়াই “নিহাল হোমিও হল”নামে চেম্বার প্রতিষ্ঠা করে অসহায় রোগীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন ডাঃ নাজমুল হুদা । তার রোগীদের রোগ ভালো না হলে তিনি বলেন, “ধৈর্য্য ধরতে হবে, হোমিও ওষুধে রোগ সারতে একটু সময় লাগবেই, এ অবস্থায় রোগীরা অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা করাবে জানালে তিনি তাদের ভয় দেখিয়ে বলেন, কি দরকার, ওখানে গেলেই তো বলবে “অপারেশন করতে হবে, অযথা কাটাছেঁড়া করবে আর লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেবে’।

এদিকে রোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে কয়েকজন সাংবাদিকরা “নিহাল হোমিও হল” নামে ডাঃ নাজমুল হুদার চেম্বারে গিয়ে দেখতে পান ময়লা আবর্জনার স্তুপে ভরা তার চেম্বারটি। আর তার মধ্যে পুরোনো/ডেট এক্সপায়ার্ড ওষুধের বোতল। এগুলো সম্পর্কে ডাঃ নাজমুল বলেন হোমিও ওষুধের ডেট এক্সপায়ার হয় না।

ডাঃ নাজমুল হুদাকে তার বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ডে চিকিৎসক হিসেবে রেজিস্ট্রেশন,ডিএইচএমএস পাসের সনদ,ড্রাগ লাইসেন্স ও ট্রেড লাইসেন্স এর সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক কোন শিক্ষা তার নাই, তবে তার আমার বাবা মরহুম ডাঃ শামসুল হুদা ও বড় ভাই মরহুম ডাঃ নাইমুল হুদা’র কাছ থেকে হাতে কলমে তিনি শিক্ষা নিয়েছিলেন। আর বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ডে চিকিৎসক হিসেবে রেজিস্ট্রেশন,ডিএইচএমএস পাসের সনদ,ড্রাগ লাইসেন্স ও ট্রেড লাইসেন্স আমার জন্য এগুলো লাগে না, তাছাড়া আমার কাছে কেউ চেক করার সাহসও রাখে না।

বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ডের এ কর্মকর্তা জানান ,ডাক্তার হিসাবে হোমিওপ্যাথি পড়াশোনার জন্য বাংলাদেশ সরকার স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ২টি হোমিওপ্যাথি আন্তর্জাতিক কোর্স বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড, ঢাকা অধিভুক্ত ডিএইচএমএস (ডিপ্লোমা ইন হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি ৪ বছর মেয়াদি) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের আওতাধীন বিএইচএমএস (ব্যাচেলর অব হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি ৪ বছর মেয়াদি) । হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার হিসাবে প্র্যাকটিস করার জন্য বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক প্র্যাকটিশনার অর্ডিনেন্স ১৯৮৩ এর বিধানাবলী মোতাবেক বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ডে নাম রেজিস্ট্র্রি করে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা শাস্ত্র অনুযায়ী চিকিৎসা করিবার অধিকার পাবার বাধ্যবাধ্যকতা রয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড, নিকুঞ্জ-২, খিলক্ষেত, ঢাকা এর অধিভুক্ত দেশের যে কোন হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ হতে ৪ বছর মেয়াদি ডি.এইচ.এম.এস পাস করার পর কলেজ হাসপাতাল হতে ৬ মাসের ইন্টার্নিশিপ করার পর বোর্ড হতে ডিএইচএমএস সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করতে হয়। তারপর তাকে ডিএইচএমএস কোর্সের প্রত্যেক বর্ষের সবগুলো নম্বরপত্র, ইন্টার্নিশিপ সার্টিফিকেট, কলেজ প্রশংসাপত্র, বোর্ডের ডিএইচএমএস কোর্সের সার্টিফিকেটসহ বোর্ডের ওয়েবসাইডে নির্দিষ্ট রেজিস্ট্রেশন ফরমে ব্যাংক ড্রাফটসহ আবেদন করতে হয়। বোর্ড কাগজ-পত্র যাচাইসহ বোর্ড কমিটির মিটিংয়ে অনুমোদন পেলে তাকে চিকিৎসা পেশার জন্য এবং আইনানুগ অধিকারের জন্য রেজিস্ট্রেশন নম্বরসহ রেজিস্ট্রেশন সনদপত্র (বাংলা বা ইংলিশ) প্রদান করে। যা বর্তমানে ৫ বছর পর পর নবায়ন যোগ্য। হোমিওপ্যাথি কোর্স করার পর রেজিস্ট্রেশন সনদপত্র ছাড়া কেহ নামের অগ্রভাগে ‘ডা.’ লিখতে পারে না।

গল্পটা এখানেই শেষ নয়, সাংবাদিকরা ফিরে আসার পরে হোমিওপ্যাথিক বোর্ডের রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাগ লাইসেন্স ছাড়াই ডাক্তার পরিচয়দানকারী ভূয়া ডাক্তার ডাঃ নাইমুল হুদার সকল তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার কারনে একদল মাস্তান নিয়ে সাংবাদিক সাগর নোমানীর বাড়ীতে হামলা চালান । এ সময় সাংবাদিক সাগর নোমানীকে না পেয়ে তার মাকে শাসিয়ে যান আর বলেন ” তোর ছেলেকে সাবধান করে দিস, যদি কোন সংবাদ মাধ্যমে আমার নামে কোন নিউজ হয়, তাহলে তোর ছেলেকে মেরে ফেলবো, আর সাথে যারা ছিলো তাদের কাউকেই ছাড় দেব না বলে হুমকি দিয়ে চলে জান তারা।

এদিকে নিজ বাড়ীতে এসে হুমকির বিষয়ে সাংবাদিক সাগর নোমানী বোয়ালিয়া মডেল থানায় ২৭ নভেম্বর রাতে একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। ডায়েরি নং-১৫০৬।

এবিষয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিবারন চন্দ্র বর্মন বলেন সাংবাদিক হুমকির বিষয়ে একটি ডায়েরি হয়েছে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যাবস্হা নেওয়া হবে।

বেনাপোলে বিপুল পরিমান ইউএস ডলার সহ আটক-১

মোঃ রাসেল ইসলাম,বেনাপোল(যশোর)প্রতিনিধি: বেনাপোল পরিবহন স্টান থেকে ৬৫ হাজার ৪ শত ইউএস ডলার সহ সজীব (২৮)নামে এক হুনডি ব্যবসায়ীকে আটক করেছে বিজিবি। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৪ টার সময় তাকে আটক করা হয়। সে সরিয়াতপুর জেলার নড়িয়া থানার নড়িয়া গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে।

৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে কর্নেল সেলিম রেজা জানান.গোপন সংবাদে জানতে পারি এক হুনডি ব্যবসায়ী বিপুল পরিমান ইউএস ডলার নিয়ে ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশ্য বেনাপোল বাস স্ট্যান্ডে অবস্থান করছে।

এমন সংবাদের ভিত্তিতে বেনাপোল বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার আব্দুল ওহাব সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে সেখানে অভিযান চালিয়ে ৬৫ হাজার ৪ শত ইউএস ডলার সহ সজিব কে হাতেনাতে আটক করেন। যার বাংলাদেশী টাকা টাকা ৫৬ লাখ টাকা।

আটকের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে বেনাপোল পোর্ট থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

ভাওয়াল মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদ যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ,কফিল উদ্দিনের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী পালিত ।

মোঃ মনির হোসেন ,গাজীপুর জেলা প্রতিনিধিঃ গাজীপুর বৃহত্তর ভাওয়াল মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদ যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সৎ নিষ্ঠাবান মির্জাপুর ইউনিয়নের গরিব মানুষের বন্ধু হিসেবে পরিচিত মোঃ কফিল উদ্দিন সিকদার।আজ ২৭-১১-২০১৯ কফিল উদ্দিনের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হলো ।  তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭-১১-২০১৭ সালে রোড এক্সিডেন্টে মৃত্যুবরণ করেন , তিনি কফিলউদ্দিন সিকদার এর পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে তার রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া চেয়েছেন তার মা এবং বাবা ।

খেজুুুরের রস দিয়েই গ্রামীণ জনপদে শুরু শীতের আমেজ

সৈয়দ রুবেল ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধিঃ বাঙালির শীতের দিনের অন্যতম আকর্ষণ খেজুর গুড়ের তৈরি পিঠা-পায়েশ।প্রাচীন কাল থেকে অবিভক্ত ভারতে খেজুর গুড়ের জন্য বাংলাদেশ বিখ্যাত ছিল। এজন্য একটি প্রবাদ প্রচলিত আছে বাংদেশের যশ, খেজুরের রস । দিন বদলের সাথে সাথে ঝালকাঠির অনেক পরিবর্তন হয়েছে। শুধু পরিবর্তন হয়নি খেজুরের রস সংগ্রহ এবং গুড়-পাটালি তৈরী পদ্ধতি।

শীত মৌসুমের আগমনে গাছিরা খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করার জন্য প্রাথমিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ঝালকাঠি উপজেলায় নবগ্রামে ইতোমধ্যে গাছিরা খেজুর গাছ তোলা চাচার (মাথা পরিস্কার) কাজ শুরু করেছে। অল্পদিনের মধ্যেই গৌরব আর ঐতিহ্যের প্রতিক মধুবৃক্ষ থেকে সুমধুর রস বের করে গ্রামের ঘরে ঘরে শুরু হবে গুড়-পাটালি তৈরির উৎসব।

গ্রামে গ্রামে খেজুরের রস জ্বালিয়ে পিঠা, পায়েশ, মুড়ি-মুড়কী ও নানা রকমের মুখরোচক খাবার তৈরি করার ধুম পড়বে। সকালে এবং সন্ধায় কাঁচা রস খেতে খুবই মজদার। রসে ভেজা কাচি খোসা পিঠার (চিতই পিঠা) স্বাদই আলাদা।
নলেন, ঝোলা ও দানা গুড়ের সুমিষ্ট গন্ধেই যেন অর্ধ ভোজন। রসনা তৃপ্তিতে এর জুড়ি নেই।

ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী গুড়-পাটালির ইতিহাস অনেক প্রাচীন। বৃটিশ আমলে খেজুর গুড় থেকে চিনি তৈরি করা হতো। এই চিনি ‘ব্রাউন সুগার’ নামে পরিচিত ছিল। খেজুরের রস থেকে উন্নতমানের মদও তৈরি করা হতো। এই চিনি ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চালান যেত।

১৮৯০ সালের দিকে আখ থেকে সাদা চিনি উৎপাদন শুরু হলে খেজুর গুড় থেকে তৈরি চিনির উৎপাদনে ধস নামে। একে একে কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যায়। খেজুরের গুড় থেকে চিনি তৈরি না হলেও এখন পর্যন্ত বাঙ্গালির কাছে খেজুর গুড়-পাটালির কদর কমেনি।

তবে বিজ্ঞানের এই যুগে এখনো রস থেকে গুড়-পাটালি তৈরিতে মান্ধাতার আমলের পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে।

গুড়-পাটালি তৈরিতে আধুনিকতা আনা গেলে এটিও রপ্তানি পণ্যের তালিকায় স্থান পেত বলে মনে করেন চাষিরা। অবশ্য খেজুর গাছ অন্যান্য গাছের মত রপন করা বা সার মাটি দিতে হয় না। প্রাকৃতিক নিয়মেই মাঠে পড়ে থাকা খেজুরের আটি (বিচি) থেকে চারা জন্মায়। সৃষ্টি হয় খেজুরের বাগান। বর্তমান খেজুর গাছ ইট ভাটার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় বেশ আগের থেকে এ অঞ্চলে গুড়, পাটালির উৎপাদন বহুলাংশে কমে গেছে।

এখন আর আগের মত মাঠ ভরা খেজুর বাগানও নেই, নেই মাঠে মাঠে রস জ্বালানো চুলা। যা আছে তা নিতান্তই কম। পর্যাপ্ত নলেন গুড়, পাটালি পাওয়া দুষ্কর। মৌসুমে যা তৈরী হয় তা রীতিমত কাড়াকাড়ি শুরু হয়ে যায়।

আবহমান কাল থেকে তাই বাংলায় নবন্নের উৎসব পালনে খেজুর গুড়ের কদর বেশি। বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে গাছিরা গাছ পরিস্কার বা তোলা চাচার উপকরণ গাছি দা, দড়ি তৈরি সহ ভাঁড় (মাটির ঠিলে) ক্রয় ও রস জ্বালানো জায়গা ঠিক করা সহ বিভিন্ন কাজে রয়েছে ব্যতিব্যস্ত। তবে ইট ভাটায় খেজুর গাছ জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার সরকারী ভাবে নিষিদ্ধ না করলে এক সময় খেজুর গাছ পরবর্তি প্রজন্মের কাছে শুধু আরব্য উপন্যসের গল্পে পরিণত হবে।

ধামরাইয়ে কুল্লা ইউনিয়ন পরিষদ সেবা বিষয়ক নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত।

মোঃ সম্রাট আলাউদ্দিন (ধামরাই প্রতিনিধি) ধামরাইয়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবান্ধব ইউনিয়ণ পরিষদ সেবা বিষয়ক নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার (২৭ নভেম্বর) সকালে অ্যাকসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ও কমনওয়েলথ ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় কুল্লা ইউনিয়ণ পরিষদ প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত নাগরিক সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন কু্ল্লা ইউনিয়ণ পরিষদ চেয়ারম্যান কালি পদ সরকার।এসময় অ্যাকসেস বাংলাদেশের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মহুয়া পাল, মনিটরিং কো- অর্ডিনেটর লিটন বারুরী, প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর জাহাঙ্গীর আলম, কুল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রানু বালা মন্ডল , ইউনিয়ণ পরিষদের সচিব আবুল কালাম আজাদসহ প্রতিবন্ধী নারী পুরুষ, স্থানীয় জনসাধারন ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

এসময় বক্তারা বলেন, প্রতিবন্ধীরাও বর্তমানে সাধারণ মানুষেরমত জীবন যাপন করছে। এখন তারাও পিঁছিয়ে নেই। তারা বলেন, প্রতিবন্ধী নারী পুরুষ লেখাপড়া করে উচ্চশিক্ষা লাভ করে স্বাবলম্বী হচ্ছে। এসময় তারা প্রতিবন্ধী নারী পুরুষের প্রতি সহানুভুতিশীল হওয়ার জন্য সকলকে আহবান জানান।

রাণীশংকৈলে জুয়াখেলা অবস্থায় আটক ৮

রাণীশংকৈল প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে ২৭নভেম্বর বুধবার ভোর ৫টায় ট্রাক ট্যাংকলড়ি কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন অফিসের সামনে থেকে জুয়া খেলারত অবস্থায় ৮জনকে গ্রেফতার করেছে রাণীশংকৈল থানা পুলিশ।থানা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দক্ষিণ সন্ধ্যারই গ্রামের সুমা চরণ দেবের পুত্র মোহন লাল দেব মটাই (৫৫), ভান্ডারা গ্রামের মুখলেসুরের ছেলে আনিসুর রহমান (৩৫), ভান্ডারা গ্রামের দানেশ আলীর ছেলে গফুর আলী (৪১), পদমপুর গ্রামের সমির উদ্দীনের ছেলে আইজুল (৪৫), বসাক পাড়ার নারু গোপালের ছেলে বিকাশ (৫০), বাঁশবাড়ী গ্রামের বিশু মোহাম্মদের ছেলে আবুল কালাম (মোগা আবু) (৫৫), ভান্ডারা গ্রামের বদিউজ্জামানের ছেলে আমান আলী (৪৫), পশ্চিম কালুগাঁও গ্রামের জাবেদ আলীর ছেলে কেরামত আলী (৪০)কে তাস খেলার অপরাধে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে ১৮৬৭ আইনের ৪ধারায় মামলা রজু হয়। মামলা নং-২৩, তাং- ২৭-১১-১৯খ্রি:।

এ দিনেই সকালে আসামীদের ঠাকুরগাঁও জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। রাণীশংকৈল থানা অফিসার ইনচার্জ আব্দুল মান্নান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

রাণীশংকৈলে মালটা বাগানের উদ্বোধন করেন ডিসি ।

রাণীশংকৈল প্রতিনিধি ঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে ২৬ নভেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম রাণীশংকৈলে মালটা বাগান কার্যক্রম ফলক উম্মোচন শেষে পোষ্ট অফিস সংলগ্ন ৫০ শতাংশ সরকারি খাস জমিতে মালটা গাছের চারা রোপন করেন। এসময় উপজেলা চেয়ারম্যান শাহরিয়ার আজম মুন্না, ইউএনও মৌসুমী আফরিদা, কৃষি অফিসার সঞ্জয় দেব নাথ, রাণীশংকৈল প্রেসক্লাব সম্পাদক সফিকুল ইসলাম শিল্পী, উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তাগন ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন । জেলা প্রশাসক বলেন, ‘ ঠাকুরগাঁওয়ের মাটি মালটা চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী ।

আমরা জেলার পাঁচটি উপজেলাতেই মালটা বাগান কার্যক্রম হাতে নিয়েছি, এই জন্যই আমরা মালটা চাষের বিস্তার এবং বিকাশের জন্য কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। পরে ১২ জন দুঃস্থ গরিবদের মাঝে জেলা প্রশাসকের নিজস্ব ত্রাণ-তহবিল থেকে ত্রাণ বিতরণ করেন।

ধামরাইয়ে সাবেক সংসদ সদস্য এম এ মালেক ও তার স্ত্রী মীনা মালেককে অবাঞ্চিত ঘোষণা।

মোঃ সম্রাট আলাউদ্দিন (ধামরাই প্রতিনিধি)ধামরাই উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম এ মালেক ও তার স্ত্রী মীনা মালেককে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার ২৬ নভেম্বর বিকালে মুন্নু এন্ড সন্স কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত সমাবেশে এ ঘোষণা দেন উপজেলা আওয়ামীলীগ, পৌর আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।ধামরাই উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা সাখাওয়াত হোসেন সাকু, ধামরাই পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও ধামরাই পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব গোলাম কবির মোল্লা, ধামরাই পৌর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আরিফ হোসেন সহ সকল নেতাকর্মীর নামে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা দায়ের করার কারনে সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এম এ মালেক ও তার স্ত্রী মীনা মালেককে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়।উক্ত সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কাশেম রতন ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মাসুম খান। বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও পৌরসভার কাউন্সিলর এবং উপজেলা যুবলীগ নেতা হাফিজুর রহমান হাফিজ ও হারুনুর রশিদ রোকন, পৌর যুবলীগের সহ-সভাপতি আলি খান সহ সুশীল সমাজের লোকজন সহ দলের অনন্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোপ মিছিল ধামরাই মুন্নু এন্ড সন্স এর সামনে থেকে শুরু হয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ধরে ঢুলিভিটা প্রদক্ষিণ করে আবার মুন্নু এন্ড সন্স এসে শেষ হয়।

সর্বশেষ আপডেট...