গোপালগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে গণধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৬
সময়ের খবর ডেস্ক:চাঞ্চল্যকর ও আলোচিত গোপালগঞ্জ সদরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িত ৬ জনকে গোপালগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ানবাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান র্যাবের লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে গোপালগঞ্জের স্থানীয় একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রী ন্যাক্কারজনকভাবে গণধর্ষণের শিকার হন। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে ভূক্তভোগীসহ দুই শিক্ষার্থী গোপালগঞ্জ সদরের নবীনবাগ হেলিপ্যাডের সামনে থেকে হেঁটে মেসে যাওয়ার সময় কতিপয় দুর্বৃত্ত নাম ঠিকানা জিজ্ঞাসা করে বাদানুবাদে লিপ্ত হয়।
একপর্যায়ে ওই শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক স্থানীয় একটি ভবনে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। উক্ত ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে। সারাদেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও তাদের যৌক্তিক আন্দোলনে উক্ত পৈশাচিক ন্যাক্কারজনক ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় নিয়ে এসে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদ জানায়।
এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে গোপালগঞ্জ সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
তিনি আরও জানান, এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে র্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র্যাব-৮ এর অভিযানে ২৫ ফেব্রুয়ারি গোপালগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তারা হলেন- রাকিব মিয়া ওরফে ইমন (২২), পিয়াস ফকির (২৬), প্রদীপ বিশ্বাস (২৪), মোঃ নাহিদ রায়হান (২৪), মো. হেলাল (২৪), এবং (৬) তূর্য মোহন্ত (২৬)।
আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা মূলত রাকিবের নেতৃত্বে স্থানীয় একটি অপরাধ চক্রের সদস্য। তারা সকলেই গোপালগঞ্জ ও তার আশপাশের এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা।
গ্রেপ্তারকৃত তূর্য মোহন্ত ব্যতীত তারা প্রায় ৮/১০ বছর যাবত নবীনবাগ এলাকায় বিভিন্ন স্থানে মাদক সেবন, আড্ডা, জুয়াসহ বিভিন্ন ধরণের অপকর্মে লিপ্ত ছিল। এছাড়াও তারা চুরি ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধেও জড়িত ছিল। তারা বিভিন্ন সময়ে রাস্তাঘাটে স্কুল/কলেজের ছাত্রীদের উত্যক্ত করত বলে জানা যায়। তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলাও রয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায় যে, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে গ্রেপ্তারকৃতরা ইজিবাইক দিয়ে নবীনবাগ হেলিপ্যাড সংলগ্ন এলাকায় যাওয়ার পথে ভূক্তভোগীকে তার বন্ধুসহ দেখে ইজিবাইক থামিয়ে তাদেরকে নাম পরিচয় জিজ্ঞাসা করে এবং বিভিন্ন ধরণের অশালীন মন্তব্য করতে থাকে। তাদের সাথে ওই শিক্ষার্থী এবং তার বন্ধুর বাকবিতন্ডা হয়।
পরবর্তীতে তাদেরকে জোরপূর্বক ঘটনাস্থলের পাশে ঢালু জায়গায় নিয়ে যেতে চাইলে ভূক্তভোগীর বন্ধু বাঁধা দেয়ায় গ্রেপ্তারকৃতরা তাকে মারধর করে। এরপর গ্রেপ্তারকৃতরা ওই শিক্ষার্থীকে স্থানীয় একটি ভবনে নিয়ে গিয়ে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃত রাকিব মিয়া ওরফে ইমন স্থানীয় একটি মাদ্রাসা হতে দাখিল ও আলীম সম্পন্ন করে। সে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে রিসেপশনিস্ট হিসেবে চাকুরী করত। ইতোপূর্বে তার বিরুদ্ধে মাদক ও মারামারির মামলা রয়েছে বলে জানা যায়। পিয়াস ফকির গোপালঞ্জের একটি পাওয়ার হাউজে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করে।
এছাড়াও গ্রেপ্তারকৃত প্রদীপ বিশ্বাস স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে ৭ম শ্রেণী পর্যযন্ত অধ্যয়ন করে। সে গোপালগঞ্জে হোম সার্ভিসের মাধ্যমে এসি ও ফ্রিজ মেরামতের কাজ করত। গ্রেপ্তারকৃত নাহিদ রায়হান স্থানীয় একটি কলেজে স্নাতক ২য় বর্ষে অধ্যয়ণরত।
গ্রেপ্তারকৃত মো. হেলাল স্থানীয় একটি কলেজে অধ্যয়ণরত। সে একটি মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় ডিস্ট্রিবিউশন সেলস অফিসার হিসেবে চাকরি করত।
গ্রেপ্তারকৃত অপর আসামি তূর্য মোহন্ত খুলনার একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ২০১৮ সালে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করে। পরবর্তীতে, সে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে অধ্যয়ণের জন্য বিদেশ গমন করে। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে শেষ বর্ষে থাকাকালীন কোভিড পরিস্থিতির কারণে সে দেশে চলে আসে এবং গোপালগঞ্জে সদরে গার্মেন্টস পণ্য নিয়ে ব্যবসা শুরু করে।
তূর্যের বিরুদ্ধেও একটি মারামারির মামলা রয়েছে বলে জানায় র্যাব।
টিকা না নিলে ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স বাতিল
সময়ের খবর ডেস্ক: ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘করোনার টিকা না নিলে ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স বাতিল করা হবে। টিকা না নেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ।’
শনিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) মোহাস্মদপুর সূচনা কমিউনিটি সেন্টারে গণটিকা কার্যক্রম পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
এসময় মেয়র জানান, এখন থেকে যারা নতুন করে ট্রেড লাইসেন্স নিতে যাবেন, তাদের অবশ্যই টিকা দেওয়া থাকতে হবে। এ ছাড়া, যেসব ব্যবসায়ীদের টিকা দেওয়া বা টিকার সনদ থাকবে না, তাদের ট্রেড লাইসেন্স বাতিল করা হবে।
মেয়র আতিক বলেন, ‘সরকার দেশব্যাপী বিনামূল্যে করোনার প্রথম, দ্বিতীয় ও বুস্টার টিকা দিচ্ছে। ভোটার আইডি কার্ড এবং জন্মনিবন্ধন না থাকলেও মোবাইল নম্বর দিয়ে টিকা পাচ্ছে মানুষ। এই অবস্থায়ও কেউ টিকার বিষয়ে গুরুত্ব না দিলে, সেটা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।’
তিনি বলেন, ‘ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ৫৪টি ওয়ার্ডে ৪৮৬টি কেন্দ্রে গণটিকা কার্যক্রম চলছে। পর্যাপ্ত টিকা এখনো মজুদ রয়েছে। আজ যারা টিকা না নেবেন, তাদের বিরুদ্ধে ১ মার্চ থেকে অভিযান শুরু হবে। ডিএনসিসির ১০টি অঞ্চলে ১০ জন ম্যাজিস্ট্রেট এ অভিযান পরিচালনা করবেন। কোনো ব্যবসায়ী টিকা সনদ না দেখাতে পারলে, তার ট্রেড লাইসেন্স বাতিল হবে। এ ছাড়াও, যেসব ব্যবসায়ী নতুন করে ট্রেড লাইসেন্স নিতে যাবেন, টিকা সনদ ছাড়া তাদের লাইসেন্স দেওয়া হবে না।’
মেয়র আরও বলেন, ‘শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে পোশাক শ্রমিকেরা অন্যতম। তাদের টিকার আওতায় আনতে মালিকদের সঙ্গে কথা হয়েছে। আজ তারা উৎসবমুখর পরিবেশে টিকা নিচ্ছেন। দেখে খুব ভালো লাগছে। আজ দেশব্যাপী ১ কোটি ডোজ টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সবার সহযোগিতা নিয়ে সে লক্ষ্য অর্জিত হবে।’
ইউক্রেনের সামরিক ঘাঁটিতে হামলা, ব্যাপক গোলাবর্ষণ
সময়ের খবর ডেস্ক:ইউক্রেনের সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী। সেই সঙ্গে পূর্ব ইউরোপের দেশটির রাজধানীজুড়ে ব্যাপক গোলাবর্ষণ শুরু হয়েছে। খবর আল জাজিরার।
ইউক্রেনের সেনা কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিয়েভের একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী। তবে রুশ বাহিনীর ওই হামলা ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেন।
এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, রাজধানী কিয়েভজুড়ে কামানের গোলাবর্ষণের ব্যাপক শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। তবে শহরের ঠিক কোথায় গোলাবর্ষণ হচ্ছে সেটি এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
এদিকে, ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক হামলা শুরুর পর এখন পর্যন্ত দেশটির ৫০ হাজারের বেশি মানুষ দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। তাদের অধিকাংশই পার্শ্ববর্তী পোল্যান্ড এবং মলদোভায় আশ্রয় নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ইউক্রেনের সামরিক অবকাঠামো ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ওপর হামলা শুরু করে রাশিয়া। দ্বিতীয় দিনেই রাশিয়ার সেনারা দেশটির রাজধানী কিয়েভে পৌঁছে গেছে।
কেআরআর
ঠাকুরগাঁওয়ে হঠাৎ শিলাবৃষ্টি ও বাতাসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের সদর উপজেলায় শুক্রবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে হঠাৎ আট থেকে নয় মিনিটের শিলা বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় জনজীবন স্তবির হয়ে পড়ে এবং মাঠের ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। শহরের পথঘাট সাদা বরফে ঢেকে গিয়েছে।
শিলা বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার কবলে ব্যহত হয়েছে স্বাভাবিক চলাফেরা। জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১০ মিনিট ধরে চলমান শিলা বৃষ্টিতে ঢেকে গেছে শত শত হেক্টর ফসলের জমি। এতে গম, ভুট্টা,সরিষা, আম, জামসহ বিভিন্ন গাছের মুকুল ও অন্যান্য রবিশস্যের চরম ক্ষতি হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান।
এ সময় আবার শহরের রাস্তায় নেমে অনেককে বরফের সাথে ছবি তুলছে দেখা গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন কৃষকেরা।
শহরে বসবাসকারী ৫০ বছর বয়সী নুরুজ্জামান বলেন,”আমার জীবনে এমন শিলা বৃষ্টি হতে দেখিনি। যেন কয়েক মিনিটের শিলা বৃষ্টি ও বাতাসে গাছ পালার সকল পাতা ও মুকুল আঘাতে ছিড়ে পড়ছে। বাড়ির আঙ্গিনা, ছাদ, রাস্তা ঘাট সব সাদা হয়ে গেছে।”জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ -পরিচালক আবু হোসেন বলেন, ভারি মাপের শিলা বৃষ্টি হয়েছে শহরে।
এমন শিলা বৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে। আমার কর্মীরা মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে। কৃষকদের ক্ষতির সঠিক পরিমান নিরূপণ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সাভারে ধর্ষণের অভিযোগে ছাত্রলীগ নেতা বহিস্কার
সাভার প্রতিনিধি: সাভার সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়েরের পর ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে সাভার উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আতিকুর রহমান আতিক ও সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ কবির স্বাক্ষরিত
এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে সাভার সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সোহেল রানাকে অব্যাহতি দেওয়া হলো। সংগঠন থেকে তাকে স্থায়ী বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে সুপারিশ করা হলো। এছাড়া মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কমিটিও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয় এই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে ছাত্রলীগ নেতা সোহেল রানার বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে এক কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, সাভারের ইমান্দিপুর এলাকায় ১৪ বছরের এক কিশোরীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গত কয়েকমাস ধরে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করে আসছিলেন সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সোহেল রানা। পরে ওই কিশোরী বিয়ের জন্য চাপ দিলে সে বিয়ে করতে অস্বীকার করেন।
এ ঘটনায় বুধবার রাতে সাভার মডেল থানায় উপস্থিত হয়ে ওই কিশোরীর মা বাদী হয়ে সোহেলকে প্রধান আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর পরই তার বিরুদ্ধে আনীত ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করে ছাত্রলীগ। পরে পুলিশ এবং ভুক্তভোগী সাথে কথা বলে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা মিললে তাকে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
এদিকে মামলা দায়েরের পর থেকেই পলাতক রয়েছেন সোহেল। সাভার মডেল থানার ওসি কাজী মাইনুল ইসলাম জানান, ধর্ষণ মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সাভারের আশুরিয়ায় ৩০ বছর বয়সী অজ্ঞাত এক নারীর হাত পা বাধা বস্তা বন্দি লাশ উদ্ধার-গৃহবধুকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই
সাভারের আশুরিয়ায় ৩০ বছর বয়সী অজ্ঞাত এক নারীর হাত পা বাধা বস্তা বন্দি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দুপুরে আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের নাল্লাপোল্লা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে আশুলিয়া থানা পুলিশ।
পুলিশ জানায়,দুপুরে নাল্লাপোল্লা এলাকার একটি জঙ্গলে অজ্ঞাত এক নারীর হাত পা বাধা বস্তা বন্দি লাশ দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে আশুলিয়া থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে প্রেরণ করে। দুর্বৃওরা ওই নারীকে কুপিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ গুম করার জন্য জঙ্গলে ফেলে গেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। এবিষয়ে আশুলিয়া থানার এস আই দেলোয়ার হোসেন বলেন,অজ্ঞাত ওই নারীর নাম পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে সেই সাথে তার হত্যাকারীদের সনাক্তের চেষ্টা চলছে। এঘটনায় আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
অপরদিকে সাভারের তেঁতুলঝোড়ার দক্ষিণপাড়া এলাকায় বিউটি আক্তার নামের ৩০ বছরের এক গৃহবধুকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দুই হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র্যাব ৪ সাভার ক্যাম্প। রাতে আশুলিয়া থানা এলাকা থেকে দুই হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত দুই হত্যাকারী হলো মৌলভীবাজার জেলার রিপন ও মুন্সিগঞ্জ জেলার সোহান। র্যাব বলছে,নিহত ওই গৃহবধুর স্বামীর নির্দেশে দুই খুনি ওই নারীকে নিজ ভাড়া ঘরে গিয়ে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
হত্যাকান্ডের দুই দিন পরে দুই খুনিকে গ্রেপ্তার করলো র্যাব ৪। পরে দুপুরে সাভার মডেল থানা পুলিশের কাছে দুই খুনিকে হস্তান্তর করেছে র্যাব।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পরকীয়া সম্পর্কের জের ধরে তানজিলা নামে এক নারীকে ১০ টুকরো করে হত্যা
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পরকীয়া সম্পর্কের জের ধরে তানজিলা নামে এক নারীকে ১০ টুকরো করে হত্যা ও লাশ গুমের দীর্ঘ ১০ মাস পর ঘটনার মূল হোতা কথিত স্বামীকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই।
একই সাথে ডোবা থেকে নারীর হাঁড়গোড়ের ১৯টি অংশবিশেষ ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বটিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার( ২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার পশ্চিম দেওভোগ আদর্শনগর এলাকায় দিনব্যাপী এই উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়।
২০২১ সালের ৫ এপ্রিল ফতুল্লার বাড়ৈভোগ এলাকার একটি ডোবা থেকে অজ্ঞাত নারীর খন্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় থানা পুলিশ বাদি হয়ে মামলা দায়েরের পর কোন অগ্রগতি না হওয়ায় পুলিশ সদর দফতর থেকে তদন্তভার দেয়া হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখাকে। ক্লুলেস মামলাটির রহস্য উদঘাটনে তদন্ত করতে গিয়ে দীর্ঘ দশ মাস পর প্রযুক্তির সহায়তায় খুনিকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয় পিবিআই।
বুধবার( ২৩ ফেব্রুয়ারি) রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার এনায়েতপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় রাসেল নামে এক যুবককে। তার কাছ থেকে পিবিআই উদ্ধার করে বিশটি মোবাইল ফোন ও পঁচিশটি সীমসহ এক নারীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড ও বিভিন্ন স্থানে খণ্ডিত লাশ গুমের রহস্য।
জিজ্ঞাসাবাদে আসামি রাসেলের স্বীকারোক্তি তুলে ধরে পিবিআই পুলিশ সুপার আরো জানান, একই গ্রামের মেয়ে তানজিলার সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক তানজিলার পরিবার মেনে না নেয়ায় রাসেল ২০১৯ সালে মোনালিসা নামের এক মেয়েকে পারিবারিকভাবে বিয়ে করে।
এ খবর জানতে পেরে তানজিলা তার পরিবারের সাথে ঝগড়া করে বাড়ি থেকে বের হয়ে নারায়ণগঞ্জে চলে আসে এবং একটি গার্মেন্টসে চাকরি নেয়। পরবর্তীতে রাসেল ও তানজিলার মধ্যে আবারো যোগাযোগ ও সম্পর্ক সৃষ্টি হলে তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ফতুল্লার আদর্শনগর এলাকায় নোয়াবের বাড়ির ৩য় তলায় একটি ফ্ল্যাট বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করে।
পরে তাদের মধ্যে কলহ সৃষ্টি হয় এবং রাসেল ক্ষিপ্ত হয়ে তানজিলাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরে ২০২১ সালের ২৯ মার্চ রাতে বাসায় ফিরে তানজিনাকে মোবাইল ফোনে কথা বলতে দেখে রাসেল তাকে মারধর করে।
এক পর্যায়ে রাসেল ক্ষিপ্ত হয়ে ঘরে থাকা বটি দিয়ে গলা কেটে তানজিনাকে হত্যা করে। পরে মাথা, হাত ও পাসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ দশ টুকরো করে কিছু অংশ ফ্রিজে রেখে দেয় এবং কিছু অংশ প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে বাসার ছাদ থেকে ডোবা ও ময়লার স্তুপে ফেলে দেয়। পরে রাসেল ওই বাসা থেকে পালিয়ে প্রথমে জেলার সোনারগাঁ ও পরে রংপুরে নিজ গ্রামের বাড়িতে চলে যায়।
পিবিআই পুলিশ সুপার জানান, আসামি রাসেল এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে বৃহস্পতিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
তিনি আরো জানান, আসামি রাসেল তানাজিলাকে স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিলেও এর কোন প্রমাণ বা সত্যতা পাওয়া যায়নি। এই হত্যাকাণ্ডে আরো কেউ জড়িত আছে কিনা পিবিআই তা খতিয়ে দেখছে। এদিকে এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে গ্রেফতারকৃত রাসেলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছেন নিহত তানজিলার পরিবারসহ স্থানীয় এলাকাবাসী।































রাষ্ট্রপতির প্রেস সেক্রেটারি মো. জয়নাল আবেদীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রাষ্ট্রপতি এ তালিকা থেকে একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও চারজন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) নিয়োগ দেবেন।