হুমায়ুন কবির, রাণীশংকৈল, (ঠাকুরগাঁও) : ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ বঙ্গবন্ধু ডিগ্রী কলেজের নবনির্মিত একাডেমিক ভবনের শুভ উদ্বোধন করা হয়। এ উপলক্ষে ১২ মার্চ বৃহস্পতিবার সকালে কলেজ চত্বরে অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রেজাউল করিম তালুকদারের সভাপতিত্বে এবং বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হেলালউদ্দিনের স্বাগত বক্তব্যের মধ্যদিয় এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ও উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মু.সাদেক কুরাইশী। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য সেলিনা জাহান লিটা, সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা ওয়ার্কাস পাটির সভাপতি অধ্যাপক ইয়াসিন আলী, উপজেলা আ’লীগ সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক সইদুল হক, কলেজ অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শাহাজান আলী, জেলা পরিষদ সদস্য ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের, নেকমরদ ইউনিয়ন আ”লীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যান আবুল হোসেন, ইউনিয়ন আ’লীগ সাধারণ সম্পাদক সৌকত আলী স্বপন প্রমুখ ।
এছাড়াও সরকার দলীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ব্যক্তিবর্গ, কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য,শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রসঙ্গত: নেকমরদ বঙ্গবন্ধু কলেজটি ১৯৭২ সালে স্থাপিত হয়। বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর নামে অনেক কলেজকে জাতীয়করণ করা হলেও বহু প্রাচীন এই কলেজটি এখনও জাতীয়করণ করা হয়নি বলে, কলেজ কর্তৃপক্ষ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেন।
মোঃ সম্রাট আলাউদ্দিন(ধামরাই প্রতিনিধি) ডিএমপি ঢাকা অপহরণ মামলার ভিকটিমকে উদ্ধার এর জন্য মাননীয় পুলিশ কমিশনার ডিএমপি জনাব শফিকুল ইসলাম পিপিএম এর নিকট হতে পুরস্কৃত হয়েছেন এস আই মানিক কলাবাগান থানা ডিএমপি ঢাকা।গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটনে দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরুপ পুরস্কৃত হয়েছেন।
ঢাকা মেট্রো পলিটন পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে পুরস্কৃত হয়েছেন পুলিশ এস আই মানিক কলাবাগান থানা ডিএমপি
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডিএমপি পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা ও ডিএমপি পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।
আপেল মাহমুদ,নওগাঁ প্রতিনিধি: মুজিববর্ষ উপলক্ষে ব্যতিক্রমী নলেজ ক্যালেন্ডার প্রকাশ করেছেন নওগাঁর মান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল হালিম। এই ক্যালেন্ডারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা এক নজরে জানতে পারবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মহান মুক্তিযুদ্ধ, জাতীয় চারনেতা, জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও বাল্য বিয়ে নিরোধ আইন সম্পর্কে।
আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ব্যতিক্রমী এ নলেজ ক্যালেন্ডার বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।
এ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে মান্দা থানা আদর্শ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের হলরুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ইউএনও আব্দুল হালিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে নওগাঁ জেলা প্রশাসক হারুন-অর-রশীদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নলেজ ক্যালেন্ডার বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
সভায় উপজেলা চেয়ারম্যান সরদার জসিম উদ্দিন, ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুবা সিদ্দিকা রুমা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেখ শাহ্ আলম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রেজাউল করিম, মান্দা মমিন শাহানা সরকারি কলেজ অধ্যক্ষ বেদারুল ইসলাম, উপজেলা রিসোর্স ইন্সট্রাক্টর কায়ছার হাবীব, সহকারি প্রধান শিক্ষক অনুপ কুমার মহন্ত প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রকাশিত নলেজ ক্যালেন্ডার থেকে শিক্ষার্থীরা অতি সহজেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে ১৫ টি প্রশ্নের উত্তর জানতে পারবে। এছাড়া জানা যাবে জাতীয় স্মৃতিসৌধ সম্পর্কে ১২টি, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জাতীয় চারনেতার ১০টি এবং বাল্যবিয়ে নিরোধ আইন সম্পর্কে ৬টি প্রশ্নের উত্তর। জ্ঞানভিত্তিক এধরণের ক্যালেন্ডার প্রকাশ করায় ইউএনও আব্দুল হালিমকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সুধীমহল।
এ প্রসঙ্গে ইউএনও আব্দুল হালিম জানান, ‘আমাদের তরুণ প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা যেন বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে জানতে এবং তার আদর্শকে অন্তর ধারণ ও লালন করতে পারে সেই লক্ষে এ নলেজ ক্যালেন্ডার প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া মহান মুক্তিযুদ্ধ, জাতীয় চারনেতাসহ অন্যান্য মৌলিক বিষয়ে জ্ঞানঅর্জনে আগ্রহী করে তুলতে মান্দা উপজেলার সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নলেজ ক্যালেন্ডার প্রদান করা হচ্ছে।’
নওগাঁ জেলা প্রশাসক হারুন-অর-রশীদ বলেন, ‘নলেজ ক্যালেন্ডার থেকে অর্জিত জ্ঞানের মাধ্যমে মান্দার স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থীরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে উঠবে ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করবে। এতে শিক্ষার্থীরা আদর্শ দেশ প্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।’
এর আগে জেলা প্রশাসক হারুন-অর-রশীদ উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন মাঠে সম্প্রসারন ও সংস্কারকৃত মিনি শিশু পার্ক ও মিনি চিড়িয়াখানার উদ্বোধন করেন।
সৈয়দ রুবেল, ঝালকাঠি প্রতিনিধি : ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার ষাটপাকিয়া এলাকায় অবৈধ শিশু খাদ্য ও ডিটারজেন্ট তৈরী করে প্রতারণার মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলো । গোপন সংবাদে র্যাব-৮ বরিশালের একটি দল ঐ এলাকায় জনাব মোঃ সাখাওয়াত হোসেন, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট, নলছিটি, ঝালকাঠি এর সমন্বয়ে ভেজাল বিরোধী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে এবং হাতেনাতে কারখানার মালিক মোঃ মীর ইমদাদুল ইসলাম(৩২) কে আটক করে।
মোঃ মির ইমদাদুল ইসলাম উপজেলার ষাটপাকিয়া গ্রামের মীর শফিকুল ইসলামের ছেলে।সে সহজ সরল মানুষকে বিভিন্ন প্রতারণার মাধ্যমে তার কারখানায় তৈরী ভেজাল শিশু খাদ্য এবং অবৈধ ডিটারজেন্ট এর ব্যবসা করছে যা মানুষের শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর এবং বিপজ্জনক।
তার কারখানা তল্লাশী করে বিভিন্ন কোম্পানীর মনোগ্রাম এবং মোড়ক পরিবর্তন করে সরকারী অনুমোদন ব্যতিত শিশু খাদ্য এবং ডিটারজেন্ট পাওয়া যায়।
কারখানার মালিক মীর ইমদাদুল ইসলাম তার উৎপাদিত পণ্যের স্বপক্ষে কোন বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয় এবং মোবাইল কোর্টের সামনে তার দোষ স্বীকার করে।
মোবাইল কোর্টের ম্যাজিস্ট্রেট আটককৃত মোঃ মীর ইমদাদুল ইসলাম(৩২)কে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের অধীনে ৮০,০০০/- টাকা জরিমানা আদায় করেন ও কারখানাটি সিলগালা করে দেন এবং পরবর্তীতে এরূপ অবৈধ কাজ না করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।
পরবর্তীতে জনাব মোঃ সাখাওয়াত হোসেন, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট, নলছিটি, ঝালকাঠি কর্তৃক জব্দকৃত সকল অবৈধ শিশু খাদ্য ও ডিটারজেন্ট জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়।
এ সময় স্থানীয় লোকজন র্যাবের এ ধরনের কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন। র্যাবের এ ধরনের ভেজাল বিরোধী এবং জনকল্যাণমুখী কার্যক্রম ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে।
আপেল মাহমুদ,নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি :নওগাঁর মান্দা উপজেলার সতিহাটের অদুরে পঞ্চমীতলা বিট (বিট হচ্ছে গরু বেচাকেনার পয়েন্ট, হাট নয়) এখন চোরাই গরু বেচাকেনার নিরাপদ আস্তানা।গত মঙ্গলবার চোরাই গরুসহ আন্ত:জেলা চোরচক্রের তিন সদস্য আটক হবার পর একে একে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য। এ বিটের নেতৃত্বে রয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন গরু ব্যবসায়ি। সম্প্রতি এ বিট থেকে তিন গরু ব্যবসায়ির অন্তত: পাঁচ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের ছয়টি গরু গায়েব করা হয়েছে।
এসব ঘটনায় কোন প্রতিকার পাননি ভুক্তভোগীরা। প্রভাবশালী নেতৃত্বের কাছে হার মেনে নিরব থাকতে হয়েছে তাদের। এদের মধ্যে রনি নামে এক ভুক্তভোগী আইনের আশ্রয় নেয়ায় ওই বিটে তাকে আর ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাড়িতে বসে রয়েছেন তিনি।
স্থানীয়রা জানান, মান্দা উপজেলার দ্বিতীয় বৃহত্তম পশুর হাট সতিহাট। এ হাট থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দুরে পঞ্চমীতলা বিট। বিট চালুর প্রথমদিকে বাছুর গরু বেচাকেনার মধ্যদিয়ে কার্যক্রম শুরু করা হয়। পরবর্তীতে বড়বড় বলদ, ষাঁড়, গাভীসহ ভারতীয় গরুর সংখ্যা বাড়তে থাকে। বর্তমানে এ আস্তানায় প্রত্যেকদিন অন্তত: শতাধিক গরু অবস্থান করে। এসব গরু কোন হাটে যাচ্ছে, কোথাকার ছাড়পত্রে গরুগুলো বিক্রি হচ্ছে তা নিয়ে ধু¤্রজালের সৃষ্টি করেছে। গত মঙ্গলবার চোরাই গরুসহ আন্ত:জেলা চোরচক্রের তিন সদস্য আটক হবার পর আস্তানাটি এখন আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১০ সালে সতিহাটের অদুরে পঞ্চমীতলা নামকস্থানে নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের ধারে গরু বেচাকেনার এ আস্তানা গড়ে তোলা হয়। শ্রীরামপুর গ্রামের মকবুল হোসেন ও স্থানীয় মসজিদের জমি লীজ নিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গরু কেনাবেচা শুরু করেন স্থানীয় কয়েকব্যক্তি। পরবর্তীতে গরু ব্যবসায়ির সংখ্যা বাড়তে থাকে। বর্তমানে ৩২ জন ব্যবসায়ি এ পেশার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
এসব ব্যবসায়িরা সিলেট, পটুয়াখালী, কুয়াকাটা, নেত্রকোণা, বিরামপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে গরু এ বিটে নিয়ে আসেন। আবার এ অঞ্চল থেকে দেশের ওইসব অঞ্চলে ট্রাকভর্তি করে গরু পাঠান তারা। সপ্তাহের প্রত্যেকদিন ২৪ ঘন্টায় এ বিট থেকে গরুর ট্রাক ও ভটভটি লোড আনলোড হয়ে থাকে। কখন কোন ব্যবসায়ি কোন মোকাম থেকে গরু নিয়ে আসছেন বা কোন মোকামে গরু পাঠাচ্ছেন তা ওই বিটের অন্য ব্যবসায়িসহ স্থানীয়রা কিছুই জানতেন না।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, গত ২৩ নভেম্বর রাতে ফজলুর রহমান ও রনি নামে দুই ব্যবসায়ির প্রায় চার লাখ টাকা মূল্যের চারটি গরু এ বিট থেকে গায়েব হয়ে যায়। সেই রাতে ওই বিটে বিভিন্ন ব্যবসায়ির শতাধিক গরু ছিল।
এতগুলো গরুর মধ্যে চারটি গরু গায়েব হয়ে যাওয়ায় রহস্যের সৃষ্টি হয়। এছাড়া গত কুরবানীর এক সপ্তাহ আগে একইভাবে সাইফুল ইসলাম নামে আরেক ব্যবসায়ির আরও দুটি গরু গায়েব হয়েছে। এদের মধ্যে রনি গরু গায়েব হওয়ার বিষয়ে মান্দা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
গরু ব্যবসায়ি রনি জানান, ‘ঘটনার রাতে গরু পাহারা দেয়ার জন্য বিটে ১২ জন লোক ছিল। গরুও ছিল একশ’র ওপরে। বিটে এত লোক থাকা সত্বেও আমার দুটিসহ চারটি গরু গায়েব হয়ে যায়। এনিয়ে বিটে একাধিকবার সালিস হলেও গায়েব হওয়া গরু উদ্ধার হয়নি। এনিয়ে আমি থানায় অভিযোগ করেছি। এ ঘটনায় সাংবাদিকদের তথ্য দিয়েছি এমন অজুহাত তুলে আমাকে আর বিটে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক সুত্র জানায়, এ বিটের বর্তমান সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন সামছুর রহমান নামে এক গরু ব্যবসায়ি। এর আগে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন আব্দুল মতিন। এ বিটে কসাই আব্দুল মান্নানও গরু ব্যবসা করতেন। এই আব্দুল মান্নানসহ বিটের আরও কয়েকব্যক্তির আচার-আচরন সুবিধাজনক নয়।
গোয়েন্দা সংস্থার একটি সুত্র জানায়, নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের কোল ঘেঁসে এ বিটের অবস্থান হওয়ায় গরুর ট্রাক-ভটভটি লোড আনলোড ছিল অত্যন্ত সুবিধাজনক। এছাড়া পঞ্চমীতলা এলাকাটিতে লোকজনের বসতি নেই। রাত ৮-৯টার পর এলাকাটি অনেকটাই নির্জন হয়ে পড়ে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে চোর সিন্ডিকেটের সদস্যরা চোরাই গরু আস্তানাটিতে বেচাকেনা করে আসছিলেন এমন তথ্য তাদের নিকটে ছিল। কিন্তু সঠিক প্রমাণের অভাবে তারা কিছুই করতে পারছিলেন না। গত মঙ্গলবার গরুসহ চোর আটক হবার পর সেই সন্দেহের সত্যতা মিলেছে।
এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা আগে থেকেই সন্দেহের তালিকায় ছিল। খুব শীঘ্রই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
মান্দা থানার পরিদর্শক তারেকুর রহমান সরকার জানান, গরুসহ চোর আটকের ঘটনায় নওগাঁর পোরশা উপজেলার বেলঘরিয়া গ্রামের মিজানুর রহমান বাদি হয়ে মান্দা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। আটককৃতদের এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে বুধবার নওগাঁ জেলা হাজতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে পঞ্চমীতলা বিট এলাকা থেকে চোরাই তিনটি গরুসহ আন্ত:জেলা চোর সিন্ডিকেটের সদস্য নওগাঁর পোরশা উপজেলার বেলঘরিয়া গ্রামের মৃত সাইফুদ্দিন সরদারের ছেলে দেলোয়ার হোসেন (৩৫), চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার মাগুরশহর গ্রামের শীষ মোহাম্মদের ছেলে সেন্টু (৩২) ও আব্দুস সাত্তারের ছেলে মানিককে (৪০) আটক করে পুলিশ।
এ আর আহমেদ হোসাইন,কুমিল্লা প্রতিনিধি :আগামীকাল বৃহস্পতি থেকে দু’দিন ব্যাপী ‘বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি’র ১০ম জাতীয় সম্মেলন কুমিল্লা টাউনহল ময়দানে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে সম্মেলনকে ঘিরে তোরণ, পোষ্টার, ব্যানার, দেয়াল লিখন, ফ্যাষ্টুন সহ নানা প্রচারনায় কুমিল্লা মহানগরকে সু-সজ্জিত করা হয়েছে। সারা দেশ থেকে আগত হাজার হাজার শ্রমজীবী নারী- পুরুষ লাল পতাকা হাতে নিয়ে কুমিল্লা টাউনহল ময়দানকে সমবেত হবে।
বেলা ২টায় টায় টাউন হল ময়দানে উক্ত সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন ‘বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি’র প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদক, সাবেক ডাকসুর ভিপি বর্তমান বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। উদ্ভোধনীর পর একটি বর্নাঢ্য শোভাযাত্রায় কুমিল্লা মহানগরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনঃরায় টাউন হল য়দানে এসে শেষ হবে।
সম্মেলনে কেন্দ্রীয়, জেলা, উপজেলার নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিদেশী অতিথিদের মধ্যে থাকবেন,- ভারতের ক্ষেতমজুর ইউনিয়নের জাতীয় সম্পাদক নির্মল ভিজেন্দ্রা সিং, সর্ব ভারতীয় কৃষি শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি আমির পাত্র, যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক বিক্রম সিং, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের বিধান সভার সদস্য শহীদ উদ্দিন চৌধূরী, পাকিস্তানের কৃষক সভার সহ-সভাপতি দামরো মাল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক দয়াল দাস ও নিখিল নেপাল কৃষক ফেডারেশনের স্থায়ী কমিটির সদস্য বালাদেব চৌধূরী প্রমূখ ব্যক্তিবর্গ উপস্থি থাকবেন।
সম্মেলনে গণসঙ্গীত পরিবেশন করবেন ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের শিল্পী রাজা হাসান, বাংলাদেশের পল্লী গানের শিল্পী জহির হাসান প্রমূখ। বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর নাট্যদল বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন নিয়ে রচিত যাত্রা ‘বিয়াল্লিশের পালা’ পরিবেশন করবে।
‘বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি’র দশম জাতীয় সম্মেলন প্রস্তুতি পরিষদের চেয়ারম্যান পরেশ কর বলেন, সম্মেলনকে ঘিরে আমাদের সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। নিরাপত্তায় প্রশাসনের লোকজন ছাড়াও আমাদের নিজস্ব সেচ্ছা সেবক দল কাজ করবে। একটি মেডিকেল টিম সার্বক্ষনিক কাজ করবে। তিনি বলেন, বিভিন্ন সরকরি বরাদ্ধ লুটপাটকারীদের প্রতিরোধ, দেশের সবচেয়ে অবহেলিত দরিদ্র মানুষগুলো বাঁচার জন্য রেশন, পেনশন, কাজ-মজুরী, পূর্ণাঙ্গ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গ্রামাঞ্চলে জোরদার গণআন্দোলন গড়ে তোলাই আমাদের এ সম্মেলনের লক্ষ্য। তিনি গর্বের সাথে আরো বলেন, ১৯৮১সালের ১৮মার্চ সংগঠনটির প্রতিষ্ঠা থেকে গত ৩৯বছর ক্ষেতমজুর সমিতি এদেশের গ্রামের গরিব, ক্ষেতমজুর, গ্রামীণ শ্রমজীবী নারী-পুরুষের অধিকার আদায়ের সংগঠনে পরিনত হয়েছে। ক্ষেতমজুর সমিতির আন্দোলনের ফলে খাস জমি ১ টাকা সালামির বিনিময়ে ভূমিহীন ক্ষেতমজুর স্বামী-স্ত্রীর নামে রেজিষ্ট্রি করে দেয়ার আইন তৈরী হয়েছে। সারা দেশে ক্ষেতমজুর সমিতির নেতৃত্বে হাজার হাজার একর খাস জমি এবং ৩০ হাজার খাস পুকুরে লাল নিশান টানিয়ে দিয়ে ক্ষেত মজুররা দখলে নিয়েছে। ১নং খতিয়ানে খাস জমির উপর ভূমিহীন ক্ষেত মজুরদের আইনি অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়।
প্রতিবছর গ্রামের গরিবদের জন্য নানা ধরনের কর্মসূচী ও প্রকল্পে বিপুল পরিমান বরাদ্ধ দেয়া হয়, কিন্তু এসকল বরাদ্ধ প্রকৃত ভূমিহী বা প্রাপকরা পান না। ক্ষমতাসীন শ্রেণী, নেতা- কর্মীরা প্রশাসনের যোগশাজসে আত্মসাৎ করে। তিনি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচীর অধিনে বাদ্ধকুত অর্থ যাতে চেয়ারম্যান মেম্বার আত্মসাৎ করতে না পারে তার জন্য গ্রামাঞ্চলে প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলার ডাক দেন।
১৯৩৮ সালে কুমিল্লায় সারা ভারত কৃষক সভার তৃতীয় সর্বভারতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ৮২বছর পর আজ গ্রামের গরিব মানুষদের সংগঠন বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির ১০ম জাতীয় সম্মেলন কুমিল্লা টাউন হল ময়দানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
রেজাউল ইসলাম মাসুদ, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধিঃ ” মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে মাথা গুজার ঠাঁই চায় হজরত আলী ও তার পরিবার”। ঠাকুরগাঁও সদরের সালান্দর নয়(৯ নং) ওয়াড আরাজী সিং পাড়ায় চৌদ্দ হাত কালী থেকে গড়েয়া যাওয়ার রাস্তার পার্শে সরকারি রাস্তার জায়গায় কোন মতে মাথা গুজার ঠাঁই করে মানবেতর জিবন যাপন করছে হজরত আলী ও তার পরিবার।রিক্সা চালক হজরত আলী ও তার পরিবার সাংবাদিকদের জানায়,দীর্ঘ তিন বছর যাবৎ সে এখানে ঘর করে আছে। তার পরিবারে দুই মেয়ে ও দুই ছেলে। দুই ছেলে ঢাকায় কাজ করে কিন্তু তারা আমাদের পরিবারে কোন খরচ পাঠায় না। আমার শেষ সম্বল বাড়ির জায়গা টুকু বিক্রি করে বড় মেয়ের বিয়ে দিয়েছি, এখন আমি নিঃস্ব আমার বসত বাড়ি করার কোন জায়গা না থাকায় রাস্তার পার্শে রাস্তার সরকারি জায়গায় কোন রকমে ঘর করে আছি।
অনেক দিন যাবৎ আমি বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে বাসায় পড়ে আছি, বয়সের ভারে রিক্সাও চালাতে পারি না। আমার স্ত্রী আর ছোট মেয়ে মানুষের বাসায় কাজ করে যেটুকু খাবার নিয়ে আসে তা দিয়ে এক বেলা খেয়ে কোন রকমে বেঁচে আছি। টাকা পয়সার অভাবে আমার ছোট মেয়ে টি বিয়ে দিতে পারছি না। সরকারের সহযোগিতা ছাড়া শেষ বয়সে আমার বেঁচে থাকার আর কোন উপায় নেই।
আমার ও আমার পরিবারের এখন একমাত্র ভরসা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এক মাত্র উনার সহযোগিতায় পারে এক খন্ড জমির ওপর আমার ও আমার পরিবারের মাথা গুজার ঠাঁই করে দিতে।
এ আর আহমেদ হোসাইন ,(কুমিল্লা জেলা) প্রতিনিধি: “দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাস পূর্ব প্রস্তুতি টেকসহ উন্নয়নে আনবে গতি” ওই শ্লোগানকে সামনে রেখে সারা দেশের ন্যায় কুমিল্লা দেবীদ্বারে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস ২০২০ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় রালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।ওই রালীটি উপজেলা পরিষদ থেকে শুরু হয়ে প্রধান-প্রধান সড়ক প্রদিক্ষন করে উপজেলা পরিষদ হল রোমে গিয়ে শেষ করা হয়।
পরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠানে দেবীদ্বার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা গোলাম মাওলা সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন সহকারি ভূমি কমিশনার সাহিদা আক্তার,
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আবু তাহের।উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তা এ কে এম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। ৯ নং জাফরগন্জ ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন। ইঞ্জিনিয়ার আলী আশরাফ স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সাদ্দাম হোসেন।
পৌর যুবলীগের সহ-সভাপতি কাজী সুমন সহ উপজেলার বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ ও আ’লীগ নেতৃবৃন্দ।
বেনাপোল প্রতিনিধি: বেনাপোল পোর্ট থানাধীন ডুবপাড়া গ্রামের মাঠের মধ্য থেকে ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করে পোর্ট থানা পুলিশ।মঙ্গলবার(১০ মার্চ) ভোর রাতে বেনাপোল পোর্ট থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই পিন্টু দাস ও কনস্টেবল মোঃ খলিলুর রহমান গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে ডুবপাড়া মাঠ দিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদক যাচ্ছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা মাদক ফেলে পালিয়ে যায়, সেখান থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মামুন খান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বেনাপোল পোর্ট থানাধীন ডুবপাড়া গ্রামের মাঠে অভিযান চালিয়ে ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয় এবং পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
আশরাফ হোসেন পল্টু,মাগুরা প্রতিনিধি : “দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে পূর্ব প্রস্তুতি, টেকসই উন্নয়নে আনবে গতি” এ প্রতিপাদ্য বিষয়টি সামনে নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার সকালে মাগুরার শ্রীপুরে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উপলক্ষে র্যালী,ভুমিকম্প ও অগ্নিকান্ড বিষয়ক মহড়া এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে । র্যালীটি উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শ্রীপুর সরকারি কলেজ মুক্তমঞ্চে আলোচনা সভায় মিলিত হয় । আলোচনা সভার পূর্ব মূহুর্তে কলেজ মাঠ প্রাঙ্গণে উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের উদ্যোগে ভুমিকম্প,অগ্নিকান্ডসহ বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় শিক্ষার্থী ও মানুষের তৎক্ষনাৎ করণীয় কি ? সে সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের বাস্তব ধারনা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় ।এছাড়াও এসময় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা অগ্নিকান্ড বিষয়ক বিভিন্ন ধরণের মহড়া প্রদর্শন করেন।
মহড়া শেষে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন শ্রীপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ নির্মল কুমার সাহা, চেয়ারম্যান মসিয়ার রহমান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোছাঃ কহিনুর জাহান,উপ-সহকারি প্রকৌশলী অমিতাভ সরকার,প্রধান শিক্ষক শামীমুল ইসলাম,উপজেলা ফায়ার ডিফেন্স সার্ভিসের ষ্টেশন অফিসার অমল কৃষ্ণ বসু,সাংবাদিক আশরাফ হোসেন পল্টু,ও ইউ,পি সিরাজুল ইসলাম টোকন ।