ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে ৩ জাবি শিক্ষার্থীকে আটক

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক পথচারীকে ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে ৩ শিক্ষার্থীকে হাতেনাতে আটক করে গণধোলাই দেয় উপস্থিত লোকজন। শনিবার ভোর সাড়ে ৫ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেন সংলগ্ন পানির পাম্প এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে আটককৃতদের ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

আটককৃতরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সঞ্জয় ঘোষ (৪৪ ব্যাচ), ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের রায়হান পাটোয়ারি (৪৫ ব্যাচ) এবং সরকার ও রাজনীতি বিভাগের আর রাজি (৪৫ ব্যাচ)। এছাড়াও ঘটনার সাথে জড়িত আরো দুই শিক্ষার্থী এ সময় ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তারা হলেন, দর্শন বিভাগের শিবলু (৪৫ ব্যাচ) এবং কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইন্জিনিয়ারিং বিভাগের সৈকত (৪৫ ব্যাচ)।

আর ভুক্তভোগী পথচারী হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী (ড্রাইভার) মোঃ আলমগীর হোসেনের জামাতা মোঃ মনির সরদার। তিনি বিশমাইলে তার শ্বশুরবাড়িতে বেড়েতে এসেছিলেন।

ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ও আটকৃ়তরা ছাত্রলীগের রাজনীতি করতেন বলে জানা যায়। এদের মধ্যে রায়হান পাটোয়ারীকে গত ৩১ অক্টোবর ২০১৮ তারিখে ছিনতাইয়ের অভিযোগে ২ বছরের জন্য বহিষ্কার এবং ক্যাম্পাসে অবাঞ্চিত ঘোষনা করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। যা এখনও বহাল আছে। তবে সে এখনো ছাত্রলীগের ছত্রছায়ায় হলে থাকনে বলে হল সূত্রে জানা যায়। ছিনতাইয়ের ঘটনায় বহিস্কৃত হওয়ার পরেও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ তার বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে নি। অন্যদিকে আটক সঞ্জয় ঘোষ ও আল রাজী শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুয়েল রানার রাজনীতি করেন বলে দাবি করেছেন।

খোঁজ নিয়ে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মোঃ মনির সরদার তার শ্বশুরবাড়ি থেকে শনিবার ভোরে চাকরিতে যোগদানের উদ্দেশ্যে বিশমাইল এলাকার রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে তাকে আটক করে অভিযুক্ত ৫ জন। এসময় তার কাছে থাকা নগদ অর্থ সহ মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনতাইয়ের চেষ্টা করা হলে তিনি প্রতিবাদ জানান। ফলে অভিযুক্তরা তাকে সড়ক থেকে জিম্মি করে ইজিবাইক যোগে বোটানিক্যাল গার্ডেনের পানির পাম্প সংলগ্ন ঝোঁপে নিয়ে যায়। সেখানে তারা তাকে ইয়াবা ব্যবসায়ী বানানোর চেষ্টা করেন এবং বেধড়ক মারধর করেন। পরে তারা মনিরের স্ত্রীর কাছে মুঠোফোনে ১ লাখ টাকা দাবি করেন।

এরপর সেই ইজিবাইক চালকের সহায়তায় মনিরের শ্বশুর বাড়ির লোকজন সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মচারী ঘটনাস্থলে যান। এসময় তাদের উপস্থিতি বুঝতে পেরে অভিযুক্তদের ২ জন পালিয়ে যেতে পারলেও অন্য ৩ জনকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে নিরাপত্তা অফিসে নিয়ে আসেন কর্মচারীরা। আর ভূক্তভোগী মনির সরদারকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সাভারের একটি বেসরকারী হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মোঃ মনির সরদার বলেন, আমি ফার্মগেটে প্রাইভেট কার চালাই। ভোরে ফার্মগেটে যাওয়ার জন্য শ্বশুর বাড়ি থেকে রওনা দেই। বিশমাইলে রাস্তার ঢাল বেয়ে নামার সময় আমাকে আটক করে। তারা আমাকে মাদক ব্যবসায়ী বানানোর চেষ্টা করে এবং এটা আমাকে স্বীকার করতে বলে। এরপর বোটানিক্যাল গার্ডেনের পেছনে নিয়ে চেইন দিয়ে প্রায় ঘন্টাব্যাপী মারধর করে। তারা আমার কাছে থাকা টাকা, ফোন, মূল্যবান কাগজপত্র নিয়ে নেয় এবং আমার স্ত্রীকে ফোন দিয়ে ১ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সঞ্জয় ঘোষ বলেন, আমি জুনিয়রদের ফোন পেয়ে বোটানিক্যাল গার্ডেনের পেছনে যাই। আমি বিষয়টি জানতাম না। গিয়ে দেখি, ওরা তাকে মারধর করেছে। তবে ছিনতাই ও মুক্তিপন দাবি করা হয়নি।

অপর দুই মো. আল রাজী ও মো. রায়হান পাটোয়ারি মারধরের কথা স্বীকার করলেও ছিনতাই ও মুক্তিপন দাবির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, আমরা অভিযুক্তদের লিখিত ভাষ্য নিয়েছি। অভিযোগকারীদের মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। অভিযুক্তরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাদে ছিনতাইয়ের চেষ্টার কথা স্বীকার করেছে। অভিযোগকারীদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ডিসিপ্লিনারী বোর্ডের বৈঠকের মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্হা গ্রহণ করা হবে।