রনি বিএনপিতে, তৃণমূলে নানা আলোচনা

পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা নিয়ে গঠিত) আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ গোলাম মাওলা রনির বিএনপিতে যোগদান  নিয়ে এলাকায় নানা ধরনের আলোচনা চলছে।

২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন লাভ করেন। ওই নির্বাচনে জয়ী হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী গোলাম মাওলা। সাবেক এ সাংসদ রনি নামেই পরিচিত। নানা কারণে শুধু নিজ এলাকায় নন, জেলা, বিভাগীয় শহর বরিশাল থেকে শুরু করে দেশব্যাপী তিনি আলোচিত।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন, কিন্তু পাননি। গতকাল রোববার তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন বলে আভাস দিয়েছিলেন। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘মানুষের কান্নায় গলাচিপা-দশমিনার আকাশ বাতাস ভারী হয়ে গিয়েছে…উপরোক্ত অবস্থার প্রেক্ষিতে আমি নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মহান আল্লাহর ওপর নির্ভর করে নির্বাচনের মাঠে নামব। দেখা হবে সবার সঙ্গে এবং দেখা হবে বিজয়ে।’

আজ সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় রনি বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে গিয়ে ওই দলে যোগদান করেন। এ সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত ছিলেন। এ খবর প্রকাশ হওয়ার পর চলছে নানা আলোচনা।

দশমিনা উপজেলা যুবদলের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘রনি আওয়ামী লীগের সাংসদ থাকাকালীন আমাদের নেতা–কর্মীদের নামে ১৯টি মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছিল। এখন তিনিই বিএনপিতে যোগ দিয়ে মনোনয়ন পেলেন।’ তবে উপজেলা যুবদলের সভাপতি আ. মোমিন তালুকদার বলেন, ‘আসলে রনির যোগদান কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত। কেন্দ্র যাঁকে মনোনয়ন দেবে, তাঁর পক্ষেই আমরা কাজ করব।’

এদিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি ও পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি গাজী আশফাকুর রহমান বলেন, ‘গোলাম মাওলা রনি বিএনপিতে যোগদান করেছেন, তবে এখনো তাঁকে পটুয়াখালী-৩ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। আমরা চাই যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে দলের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতা, তাঁরাই মনোনয়ন পাক।’

তবে জেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদ সরোয়ার কালাম বলেন, ‘কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্তে রনি বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। কেন্দ্র থেকে মনোনয়নের বিষয় যে সিদ্ধান্ত আসবে, আমরা তার পক্ষে কাজ করব।’