হুমায়ুন কবির, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল পৌরশহরের পাঁচপীর কবরস্থানের পাশে ধানক্ষেত থেকে শনিবার ৯ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আলিফ( ২০) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মৃত আলিফ ভান্ডারা মহল্লার শহিদুল ইসলামের ছেলে।
শহিদুল জানায়, তার ছেলে আলিফ গত ৭ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিকেলে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি। তাকে পরিবারের লোকজন অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পায়নি। শনিবার দুপুরে ঐ ধানক্ষেতে ধান কাটতে গিয়ে শ্রমিকরা
আলিফের লাশ দেখতে পায়। খবর পেয়ে লোকজন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। আলিফের মৃত্যুর কারণ জানা যায়নি।
থানার ওসি( তদন্ত) আব্দুল লতিফ শেখ জানান, ময়না তদন্তের পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।
হুমায়ুন কবির, রাণীশংকৈল,(ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল পৌরসভায় স্মার্টকার্ড বিতরণ শুরু করা হয়েছে। মঙ্গলবার ৫ আগস্ট রাণীশংকৈল ডিগ্রী কলেজে সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্ষন্ত স্মার্ট কার্ড বিতরণ করা হয়।
কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন পৌর মেয়র আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান। এ সময় উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সোহেল রানা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শেফালি বেগমসহ পৌরসভার বিভিন্ন কাউন্সিলরবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনে পৌরমেয়র পৌরনাগরিক ভাইস চেয়ারম্যান সোহেল রানা ও শেফালি বেগমের হাতে স্মার্টকার্ড তুলে দেন।
আজ ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের স্মার্টকার্ড বিতরণ করা হচ্ছে। আগামী দুদিনে বাকী ৬ টি ওয়ার্ডে বিতরণ করা হবে। পৌরসভায় মোট ১২৯০৫ জন নাগরিক স্মার্টকার্ড পাবে বলে পৌর কর্তৃপক্ষ জানান।
এ প্রসঙ্গে মেয়র পৌরসভার সকল জনগনের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন “দেশের জনগন দেশ বিদেশে এই স্মার্ট কার্ডের সুফল পাচ্ছে এবং আগামীতেও পাবে।
এবং বর্তমান ডিজিটাল সরকারের এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
মোঃ সম্রাট আলাউদ্দিন, ধামরাই(ঢাকা)থেকেঃ- দেশের শীর্ষ পর্যায়ের জাতীয় সামাজিক আন্দোলন নিরাপদ সড়ক চাই(নিসচা)’ধামরাই শাখার উদ্যোগে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে মাসব্যাপী কার্যক্রমের ট্রাফিক সপ্তাহ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১ লা অক্টোবর হতে সপ্তাহব্যাপী ঢাকা আরিচা মহাসড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বাজারে টানা ৭ দিনের ট্রাফিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন নিসচা ধামরাই শাখার সদস্যরা। ১৯৯৩ সালের ২২ শে অক্টোবর চলচ্চিত্রের মহানায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের প্রাণপ্রিয় স্ত্রী মরহুমা জাহানারা কাঞ্চন মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। তার মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে সামাজিক আন্দোলনের ডাক দেন নিসচা’র প্রানপুরুষ ও স্বপ্নদ্রষ্টা ইলিয়াস কাঞ্চন।
এ আন্দোলন আজ জাতীয় আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। নিসচার চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন জানেন এই আন্দোলনের বিনিময় তার প্রিয় স্ত্রী বা তার সন্তানদের মা আর ফিরে আসবে না।কিন্তু আর যেন কোন পরিবারের সদস্য সড়ক দুর্ঘটনার কবলে না পড়ে এই চেষ্টা করে যাচ্ছে দীর্ঘ ২৮ বছর।
সড়কে বিশৃঙ্খলা ও দুর্ঘটনা রোধে নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে এই সংগঠন।দীর্ঘ আন্দোলনের ফল হিসেবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক মরহুমা জাহানা কাঞ্চনের মৃত্যুর দিন ২২ শে অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ঘোষণা করেন। তাই প্রতিবছর নিসচা’র দেশ বিদেশের সকল শাখা সংগঠন মাসব্যাপী নানা কর্মসূচি হাতে নিয়ে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কাজ করে থাকেন।তার ধারাবাহিকতায় নিরাপদ সড়ক চাই, ধামরাই উপজেলা শাখার মাসব্যাপী কার্যক্রমের ১ম ধাপের তালিকা ছিল ট্রাফিক সপ্তাহ পালন। ৭ দিন ব্যাপী এই কার্যক্রম শেষ করেছেন এই শাখার সদস্যরা। জানা গেছে,উপজেলার ঢাকা আরিচা মহাসড়কের ঢুলিভিটা বাসস্ট্যান্ড,থানা বাস্ট্যান্ড,জয়পুরা বাসস্ট্যান্ড,কালামপুর বাসস্ট্যান্ড, আমতলা বাজার এলাকা,ধামরাই পৌর বাজার এলাকা, এবং কালামপুর বাজার এলাকায় এ কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।
উক্ত বিষয়ে নিসচা’র ধামরাই শাখার সভাপতি মোঃনাহিদ মিয়া বলেন, আমাদের চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন সাহেবের দিকনির্দেশনায় আমার শাখা সড়ক দুর্ঘটনা রোধে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।ইতিমধ্যে ট্রাফিক সপ্তাহ পালনের মধ্যে দিয়ে ১ম ধাপের কার্যক্রম সম্পূর্ণ করা হয়েছে। আগামীকাল থেকে আবার শুরু হবে বিভিন্ন কার্যক্রম। আমরা চাই আমাদের উপজলার আওতাধীন যেন আর কোন সড়ক দুর্ঘটনা না ঘটে এ বিষয়ে আমরা সেচ্ছাসেবী সংগঠন হয়েও কাজ করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।
তবে এ সমস্যা গুলো দীর্ঘদিনের তাই স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসন,জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, গাড়ির মালিক, শ্রমিক,যাত্রী,পথচারী সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলে আমরা আমাদের কাংখিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব এটা আমরা প্রত্যাশা করি।
সৌমেন মন্ডল, রাজশাহী ব্যুরোঃ আজ শুভ মহালয়া। সনাতন ধর্মাবলমন্বীদের সব চেয়ে বড় উৎসব দূর্গা পূজার ক্ষন গনণা শুরু হলো আজ।এই দিনই দেবি দুর্গার চক্ষু দান করা হয়।এবার দেবী দূর্গা আসছে ঘোটকে চড়ে।
আশ্বিনের শারদপ্রাতে বেজে উঠেছে আলোক মঞ্জীর, ধরণীর বহিরাকাশে অন্তরিত মেঘমালা, প্রকৃতির অন্তরাকাশে জাগরিত জ্যোতির্ময়ী জগন্মাতার আগমন বার্তা। ভোরে মহালয়ার ঘট স্থাপন, বিশেষ পূজা আর মন্দিরে মন্দিরে শঙ্খের ধ্বনি ও চণ্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে আবাহন জানানো হয়েছে। পিতৃপক্ষ শেষে শুরু হলো দেবীপক্ষের।
মূলত মহালয়ার তিথির সময়কাল হলো অমাবস্যা। এই দিন পিতৃপুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ করার রীতি প্রচলিত আছে। তর্পন মন্ত্রে বলা হয়ে থাকে, ‘যে বান্ধবা অবান্ধবা বা, যে অন্য জন্মনি বান্ধবাঃ। তে তৃপ্তিং অখিলাং যান্ত, যে চ অস্মৎ তোয়-কাঙ্খিণঃ।’ অর্থাৎ বন্ধু ছিলেন কিংবা বন্ধু নন অথবা জন্মজন্মান্তরে বন্ধু ছিলেন তাঁদের জলের প্রত্যাশা তৃপ্তিলাভ করুক।
মহাভারতে এই দিনটিকে পিতৃপক্ষের সমাপ্তি এবং দেবীপক্ষের হয়েছে। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ অনুযায়ী ‘মহালয়’ শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত উৎস মহৎ এবং আলয়। কিংবা মহত্ত্বের আলয়। এই মহালয় শব্দ থেকেই স্ত্রীবাচক পদ এসেছে- মহালয়া। মহালয় প্রসঙ্গে ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে বলা হয়েছে, যে ক্ষণে পরমাত্মায় অর্থাৎ পরব্রহ্মে লয় প্রাপ্তি ঘটে সেটিই হল মহালয়। কেন না, পরমাত্মাই হলো পরব্রহ্ম। আর নিরাকার ব্রহ্মের আশ্রয়ই হলো মহালয়। তবে শ্রী শ্রী চণ্ডিতে মহালয় হচ্ছে পূজো বা উৎসবের আলয়। অর্থাৎ দেবীপক্ষ বা দুর্গা পূজার শুরুর ক্ষণ। আসছে ১০ই অক্টোবর পঞ্চমী তিথীর অধিবাসের মধ্য দিয়ে দেবী পূজার সূচনা হবে। মা কৈলাশ ছেড়ে তাঁর সন্তানদের নিয়ে আসবেন পিতৃলোকে। অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তি প্রতিষ্ঠায় মর্ত্যে আসবেন দেবী দুর্গা। উমা কৈলাশে ফিরবেন দোলায় যার অর্থ মড়ক কিংবা মহামারি। ১১ই অক্টোবর ষষ্ঠী তিথীতে বিল্যপত্র (বেলগাছ) পূজার মাধ্যমে দেবীকে আাহ্বান জানানো হবে। এইদিনই হবে দেবীর বোধন পূজা। ১২ই অক্টোবর সপ্তমী তিথীতে দেবীর নবপত্রিকা স্থাপন সপ্তম্যাদি কল্পারম্ভের মধ্যদিয়ে হবে মহা সপ্তমী পূজা। এই নব পত্রিকাই ‘কলাবউ’ নামে পরিচিত। নবপত্রিকাকে সিদ্ধিদাতা গণেশের পাশে অধিষ্ঠিত করা হবে। ১৩ই অক্টোবর মহা অষ্টমী তিথীতে নির্জলা উপবাস থেকে মন্দিরে পুষ্পাঞ্জলি দেয়া হবে। ১৪ই অক্টোবর মহা নবমী তিথীর পূজা শেষে দেবীর ঊমা রূপের আহ্বান করে মন্দিরে মন্দিরে হবে কুমারী পূজা। ১৫ই অক্টোবর মহা দশমীতে তিথীতে দর্পন বিসর্জনের মধ্যদিয়ে দেবী আবারো ফিরে যাবে কৈলাশে।
পুরাণ মতে, ব্রহ্মার বরে মহিষাসুর অমর হয়ে উঠেছিলেন। কোনো পুরুষ তাকে বধ করতে পারবে না। শুধুমাত্র কোনো এক নারীশক্তির কাছেই তার পরাজয় নিশ্চিত। বর পেয়ে স্বর্গ দখল নেয় অসুর রাজা মহিষাসুর। অসুরদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে স্বর্গ-মর্ত-পাতাল। তখন ত্রিশক্তি ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের শক্তি দিয়ে ঘুম ভাঙানো হয় আদি শক্তি মহামায়ার। দেবতাদের অস্ত্রে সজ্জিত করা দেবীকে। বাহন সিংহে চেপে দেবী যান অসুর বধে। রম্ভাসুর, তারকাসুর একে একে বধ করেন সকলকে। মহিষাসুরকে বধের মধ্য দিয়ে ত্রীলোকের শান্তি ফিরিয়ে আনেন দেবী দুর্গা। দেবীর সেই মহিষাসুর বধের দৃশ্যই কল্পনা করে তখন থেকে মর্ত অর্থাৎ আমাদের মানবকূলে দেবী দুর্গার পূজা শুরু হয়।
হুমায়ুন কবির, রানীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ “সবার জন্য প্রয়োজন, জন্ম ও মৃত্যুর পরপরই নিবন্ধন” এই স্লোগানকে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বুধবার (৬ অক্টোবর) জাতীয় জন্মনিবন্ধন দিবস পালন উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এ উপলক্ষে এদিন সকালে উপজেলা পরিষদ হলরুমে, সহকারি কমিশনার (ভূমি) ইন্দ্রজিৎ সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান শেফালী বেগম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, উপজেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মঞ্জুরুল আলম, নন্দুয়ার ইউপি চেয়ারম্যান জমিরুল ইসলাম, নেকমরদ ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক, সহকারি যুব-উন্নয়ন কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম।
আরো বক্তব্য রাখেন প্রেনক্লাব প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও ইত্তেফাক প্রতিনিধি অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম, পৌর আ’লীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম,বীর মুক্তিযোদ্ধা হবিবর রহমান, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের প্রধান অফিস সহকারি হাবিবা বেগম, প্রেসক্লাব (পুরাতন) সভাপতি কুশমত আলী মাস্টার, ইউপি সচিব দবিরুল ইসলাম (প্রমুখ)।
এছাড়াও বিভিন্ন কর্মকর্তা ইউপি সচিব ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
স্টাফ রিপোর্টারঃ সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন প্রকাশে অস্ত্র উচিয়ে গুলি করতে যাওয়া রাকিব (২৬) নামে একজনকে অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার করেছে ট্যানারি ফাঁড়ি পুলিশ।
বুধবার বিকালে সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের হেমায়েতপুর পূর্বহাটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় ।
জানা যায় , গ্রেপ্তারকৃত রাকিব, তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নাজিম উদ্দিনের দেহরক্ষী হিসেবে কাজ করতো । গ্রেফতারকৃত রাকিবের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে ট্যানারি পুলিশ ফাঁড়ির এসআই জাহিদ খান জানান, পূর্বহাটী নতুনপাড়া এলাকায় রাকিব, বুলবুল সহ কয়েকজন মহড়া দিচ্ছিলো। স্থানীয়রা বিষয়টি বুঝতে পেরে তাদেরকে ধাওয়া করে এবং পুলিশে খবর দেয় । পুুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাকিবকে অস্ত্র ও গুলিসহ আটক করে। এ সময় বুলবুল নামের আরেকজন দৌঁড়ে পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে পুলিশ আরো জানান, অস্ত্রের উৎসের ব্যাপারে রাকিবকে প্রাথমিক ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তার সঙ্গে থাকা বুলবুলকে আটকের চেষ্টা চলছে।
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলায় বুধবার ২৯ সেপ্টেম্বর এক বৃদ্ধ দম্পতিকে সরকারি ঘর পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ক্যামেরায় ধারণ করা শেখানো বক্তব্য দেখিয়ে ছেলের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা না পেয়ে ‘পিতা-মাতার ঠাঁই এখন গোয়ালঘরে’ এমন শিরোনামে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। এ উপলক্ষে এদিন দুপুরে পীরগঞ্জ প্রেসক্লাব হলরুমে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেন ওই দম্পতির ছেলে গণেশ চন্দ্র রায়ের পরিবার।লিখিত বক্তব্যে গণেশ চন্দ্র রায় জানান, সম্প্রতি কয়েকজন সাংবাদিক তাঁর বৃদ্ধ পিতা নগেন্দ্রনাথ রায় ও মাতা বিজয়া রাণী রায়কে সরকারি ঘর পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে শেখানো বক্তব্য ক্যামেরায় ধারণ করেন। ওই শেখানো বক্তব্যে সন্তানদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের কথা বলেন তাঁর পিতা-মাতা। এরপর ধারণকৃত সেই সাজানো বক্তব্যের ভিডিওটি ছেলে গণেশকে দেখিয়ে ৩ হাজার টাকা দাবি করেন সাংবাদিকরা। টাকা না দিলে তারা ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ গণমাধ্যমে ছড়িয়ে দিবে বলে জানান।গণেশ চন্দ্র রায় বলেন, আমার কাছ থেকে টাকা না পাওয়ায় আমার বাবা-মাকে শেখানো বক্তব্যের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় তাঁরা।
এরপর একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে আমার ও আমার পরিবারের বিরুদ্ধে ‘পিতা-মাতার ঠাঁই এখন গোয়ালঘরে’সহ বিভিন্ন শিরোনামে মিথ্যা,মানহানিকর সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত সংবাদের সূত্রধরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজাউল করিম এবং পীরগঞ্জ থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলমসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের লোকজন সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
তারা ওই প্রকাশিত সংবাদের ঘটনার সত্যতা খুঁজে পাননি। গণেশ চন্দ্র রায় আরও বলেন,ওই মিথ্যা সংবাদের কারণে আমরা সামাজিকভাবে হেয় হয়েছি। বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষজন ফোন করে ঘটনা বিষয়ে জানতে চেয়ে আমাদের বিব্রত করছে। আমরা ওই মিথ্যা সংবাদের কারণে সুশীল সমাজে মুখ দেখাতে পারছি না। মিথ্যা,বানোয়াট সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বৃদ্ধ দম্পতি নগেন্দ্রনাথ রায় ও বিজয়া রাণী রায়, ছেলে দুলাল চন্দ্র রায়, প্রতিবেশী সুজন চন্দ্র রায়, ধীরেন্দ্র নাথ রায়সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সৌমেন মন্ডল, রাজশাহী ব্যুরোঃ শরবতের দোকানে বই। যখন ক্রেতার ভিড় কমে আসে, তখন দোকানি বইটি মেলে বসেন। সড়কবাতির আলোতে পড়াশোনা করেন। এভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।
এই শরবত বিক্রেতার নাম মো. সাদেকুল ইসলাম (১৯)।
তাঁর বাবার নাম মো. জার্জিস আলী। তাঁর বাড়ি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার পশ্চিম বামনাইল গ্রামে। ১১ ভাইবোনের মধ্যে সাদেকুল সবচেয়ে ছোট। অন্য ভাইবোনেরা যে যার মতো থাকেন। ছোটবেলায় সাদেকুলকে হাফেজিয়া পড়ার জন্য রাজশাহী নগরের একটি মাদ্রাসায় ভর্তি করে দেওয়া হয়। পরে তিনি নগরের উপর ভদ্রা এলাকার মদিনাতুল উলুম কামিল মাদ্রাসা থেকে ২০১৮ সালে বিজ্ঞান বিভাগে দাখিল পাস করেন। বিজ্ঞান বিভাগের পড়াশোনার খরচ জোগাড় করতে না পারায় উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে এসে বিজ্ঞান ছেড়ে মানবিক বিভাগ নিয়ে পড়াশোনা করেন। ২০২০ সালে তিনি আলিম পাস করেন। এসএসসি ও এইচএসসি সমমানের দুই পরীক্ষায় তাঁর জিপিএ-৫ আছে। তাই ভর্তির সুযোগ পাওয়ার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।
পাঁচ বছর ধরে গরমের মৌসুমে শরবতের ভ্রাম্যমাণ ভ্যান নিয়ে সাদেকুলকে রাজশাহী রেলস্টেশনের পাশে দেখা যায়। এই বেচাবিক্রি থেকে যে আয় হয়, তা দিয়েই তাঁর পড়াশোনার খরচ জোগাড় করেন।
মদিনাতুল উলুম কামিল মাদ্রাসার বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এ কে এম সালাহ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, সাদেকুল ইসলাম খুবই পরিশ্রমী, ভালো ছেলে ও মেধাবী। সে এ শহরে থেকে অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করে।
গত সোমবার সন্ধ্যায় কথা হয় সাদেকুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, হাফেজিয়া শেষ করার পর থেকে তিনি বসে থাকেননি। কাজ খুঁজেছেন। টিউশনি করে পড়াশোনার খরচ জোগাড় করেছেন। সঙ্গে অন্যান্য কাজ করার চেষ্টা করেছেন। তিনি নগরের বালিয়াপুকুর এলাকায় থাকেন। এ এলাকায় নওগাঁর কয়েক ছেলে ভ্যানগাড়িতে করে শরবতের ব্যবসা করতেন।
তাঁদের কাছ থেকে শরবতের ব্যবসার ধারণা নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন তিনি। প্রতিদিন সকালে রাজশাহী রেলগেট এলাকায় এবং সন্ধ্যার পর রেলস্টেশনের প্রবেশমুখে তাঁর গাড়ি থাকে।শুভকামনা রইলো ভাই আপনার জন্যে।জীবন মানেই যুদ্ধ আর সেই যুদ্ধেই এগিয়ে যেতে হবে।
সাভার প্রতিনিধি: জমিদখল, সরকারী সম্পদ আত্মসাৎ, মাদক ব্যবসায় আশ্রয় প্রদান, অস্ত্রবাজি, গ্যাস সংযোগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত সাভার উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম সুরুজ।
এক সময়ের জাতীয় পার্টির ক্যাডার হিসেবে পরিচিত সুরুজ ২০০৩ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ২০১৬ সালে আওয়ামী লীগের ব্যানারে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ক্ষমতাশীন দলের ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার এর থেকেই দখল বাণিজ্য, মাদক ব্যবসায় আশ্রয় দেওয়া ও নিজস্ব বাহিনী গড়ে তুলে এলাকায় শুরু করেন আধিপত্য বিস্তার। তার ছত্রছায়ায় এলাকায় গড়ে উঠেছে একটি দুর্ধর্ষ ক্যাডার বাহিনী। এই বাহিনী এলাকায় চেয়ারম্যান বাহিনী হিসেবে পরিচিত। চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ডাকাতি, মাদক ব্যবসা, অস্ত্রবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ এই বাহিনীর বিরুদ্ধে।
এসব কর্মকান্ডের নেতৃত্বে রয়েছেন ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম (রবি)। চেয়ারম্যানের পালকপুত্র ও ডানহাত হিসেবে এলাকায় পরিচিত এই রবি। গত ১৬ জুন চাচাকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে বিদেশি পিস্তল ও কয়েক রাউন্ড গুলিসহ র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন রবি। ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি রবির মাধ্যমে এলাকায় দখল বাণিজ্য, অধিপত্য বিস্তার, পতিপক্ষের লোকদের নির্যাতন ও গ্যাস সংযোগ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করেন এই ইউপি চেয়ারম্যান।
তার লোকজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পরিবহনে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জিরানী আমতলা সড়কে বিভিন্ন পরিবহন থেকে চাঁদা টাকা উত্তোলন করছেন ইউপি চেয়ারম্যানের ছোট ভাই আব্বাস পালোয়ান, সহযোগী মোতালেবসহ একটি চক্র। প্রতিটি ব্যাটারিচালিত রিকশা থেকে দিনপ্রতি অদায় করা হয় ৩০ টাকা, মহেদ্র পরিবহনকে গুনতে হয় দিনপ্রতি ১৫০ টাকা ও মাসিক ১৫০০ টাকা। বিভিন্ন সড়কে উত্তোলনকৃত চাঁদার পরিমাণ প্রতিদিন প্রায় অর্ধলক্ষ টাকা। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে চাঁদাবাজি চলে আসলেও সম্প্রতি পরিবহন থেকে টাকা আদায়ের জন্য দেয়া হয়েছে ইউনিয়ন পরিষদের স্টিকার। তবে এসব স্টিকার প্রদান ও প্রতিদিন টাকা আদায়ের কাজটি করছেন চেয়ারম্যান পরিবারের সদস্যরাই।
শিমুলিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় কয়েক বছর আগে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেয়া হলে পরবর্তী বিভিন্ন সময় তিতাসের অভিযানে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। তবে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে বার বার এসব অবৈধ সংযোগের কারণে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে গ্যাসের সংকট। প্রতি সকালে রান্নার কাজে বিরম্বনায় পড়তে হয় বৈধ সংযোগ ব্যবহারকারীদের। সম্প্রতি গ্যাস লাইনের রাইজারে গ্যাস সরবারহ বাড়িয়ে দেয়ার কথা বলে চুলাপ্রতি ৪ হাজার টাকা করে ইউপি চেয়ারম্যান সুরুজের নামে আদায় করছেন ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য করিম চিশতী, মতি মোল্লা, আলী আহাম্মদ, দানেস বেপারীসহ একটি চক্র। এভাবে গ্যাসের সরবারহ বাড়িয়ে দেয়ার নামে শুরু হয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার বাণিজ্য।
ইউপি চেয়ারম্যান ও তার পালিত সন্ত্রাসীদের কর্মকান্ডে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষ। ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রায়ই ঘটছে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড। এসব ঘটনায় স্থানীয় বখাটেদের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীরা চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ করলেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ তো দূরের কথা উল্টো ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ডিম ও মুরগি সরবারহের ব্যবসা করেন তিনি। গত কয়েক মাস আসে রাঙ্গামাটি ব্রিজের পাশে স্টার ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারের সামনে তিনি ডাকাতির কবলে পড়েন। সেদিন ডিম ও মুরগি বিক্রি করে গাজীপুরের কোনাবাড়ি থেকে এলাকায় ফিরছিলেন। পথে ডাকাতরা রাস্তায় গাছ ফেলে তার ট্রাকের গতিরোধ করে সাথে থাকা নগদ ২ লক্ষ ৭৬ হাজার টাকা ও দু’টি দামি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।
তার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এসে ডাকাতদের হাতেনাতে ধরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম সুরুজের কাছে নিয়ে যায়। এসময় আটককৃত ব্যক্তিদের ডেকে নিয়ে আলাদা কথা বলার পর তাদের ছেড়ে দিয়ে চার দিন পর বিচার করা হবে বলে জানান চেয়ারম্যান। এরপর ঘটনার পাঁচ মাস অতিবাহিত হয়ে গেলও বিচার তো দূরের কথা! হাতেনাতে ধরা পড়া ডাকাতদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া তার টাকা ও মোবাইল দু’টি আজও ফেরত পাননি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
স্থানীয়রা জানান, ইউপি চেয়ারম্যান সুরুজের সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছাত্রলীগ নেতা রবির নিয়ন্ত্রণে চলছে এসব কর্মকান্ড। এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, উঠতি বয়সের কিশোর ও যুবকদের নিয়ে নিয়মিত মাদক সেবন করেন রবি। চেয়ারম্যানের কাছে বার বার এসব বিষয়ে নালিশ করেও প্রতিকার পাননা ভুক্তভোগীরা। একই স্থানে স্থানীয় বখাটেদের কাছে ডাকাতির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় ফরহাদ বেপারী, কালু বেপারী, গোবিন্দ নিশিসহ অনেকেই।
গত ১৩ মে গোবিন্দ নিশির স্ত্রী বেতন নিয়ে বাসায় ফেরার সময় একই স্থান থেকেই টাকা ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় কয়েকজন যুবক। পরে জানতে পারেন তারা রবির লোকজন। এছাড়া কয়েক মাস আগে বিবাহের বরযাত্রীর পথরোধ করে ডাকাতরা ৭-৮ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ পাঁচ লাশ টাকা ছিনিয়ে নেয়- বলছিলেন ভুক্তভোগী গোবিন্দ নিশি।
তবে অস্ত্র মামলায় গত কয়েক মাস ধরে চেয়ারম্যানের সহযোগী ও ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি রবি জেল হাজতে থাকায় শিমুলিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অনেকটাই শান্ত অবস্থা বিরাজ করছে। এই সময়ের মধ্যে ঘটেনি বড় কোন ডাকাতি বা অন্য তেমন অপ্রীতিকর ঘটনা- বলছিলেন স্থানীয়রা।
শিমুলিয়া ইউনিয়নের অধিকাংশ রাস্তার অবস্থা জরাজীর্ণ। সড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পরিণত হয়েছে ছোট-বড় খানাখন্দে। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে রাস্তাগুলোর এখন বেহাল অবস্থা। রিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেল আরোহীসহ পথচারীদের জন্য রাস্তাগুলোতে চলাচল যেন সীমাহীন দুর্ভোগের ব্যাপার। সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার কারণে অধিকাংশ সড়ক ডুবে থাকে পানিতে। গত পাঁচ বছরে এই চেয়ারম্যানের সময়ে রাস্তাঘাটের তেমন উন্নয়ন না হওয়ায় চরম ক্ষোভ স্থানীয়দের। বেশিরভাগ সড়কের অবস্থাই জরাজীর্ণ হলেও জিরানী মাজার রোড থেকে নামাপাড়া মসজিদ পর্যন্ত সড়ক, কলেজ রোড থেকে ঢালীবাড়ি পর্যন্ত, মুসলিম টেক, মরিচ কাটা সড়ক এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
তার বিরুদ্ধে রয়েছে সরকারী উন্নয়নের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ। গোয়াইল বাড়ি থেকে গাজীবাড়ী সড়কের নির্মাণ কাজে শ্রমিক ব্যবহার না করে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে সড়কের কাজ করান। গত পাঁচ বছরে তার ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ আসলেও রাস্তাঘাট ও অবকাঠামোগত তেমন কোন উন্নয়ন না হওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এলাকাবাসী। এছাড়া তার ইউনিয়নের পাশ্ববর্তী গাজীপুর জেলার অন্তর্গত কয়েকটি এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে ১০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত কর বকেয়া থাকে। এসব কর মওকুফ করিয়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে তার ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে নিয়ে এসব বাড়ির মালিকের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগও রয়েছে।
গত ছয় মাস আগে শিমুলিয়া ইউনিয়নের রাঙ্গামাটি এলাকায় শুকাই চান, অনন্ত সরকার ও শান্তি সরকার নামের ৩ সংখ্যালঘু ব্যক্তির নামে রেকর্ডীয় ৪ একর ৩৩ শতাংশ জমি দখল করে নিজের নামে সাইনবোর্ড টানিয়ে দেন ইউপি চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম সুরুজ। পরে নিজেদের সম্পতি প্রকৃত মালিকরা উদ্ধার করলেও প্রতিনিয়ত চেয়ারম্যানের ভয়ে আতঙ্কিত ভুক্তভোগী সংখ্যালঘুরা।
এছাড়া চেয়ারম্যানের নামে সরকারী খালের জামি থেকে মাটি কেটে পাশ্ববর্তী ইটভাটায় বিক্রির অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় ফারুকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
ছাত্রলীগ নেতা রবিসহ চেয়ারম্যানের নিজস্ব লোকদের চাঁদাবাজির আরেকটি বড় খাত বিভিন্ন তৈরি পোশাক কারখানা। এক একটি কারখানা থেকে মাসপ্রতি সর্বনিম্ন এক লক্ষ টাকা থেকে শুরু করে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করেন রবিসহ একটি চাঁদাবাজ চক্র। কারখানার ট্রেড লাইসেন্স প্রদানেও নেয়া হয় কয়েকগুণ বেশি অর্থ এমনটি অভিযোগ বিভিন্ন করাখানা মালিকদের।
শিমুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এক প্রবীণ নেতা বলেন, স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছে এলাকাবাসী জিম্মি হয়ে পড়লেও ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাননা। তার সহযোগী অস্ত্রধারী রবি এলাকায় আরেক আতঙ্কের নাম। তাকে ব্যবহার করেই মূলত সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন ইউপি চেয়ারম্যান। এসব ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম সুরুজ বলেন, যারা অভিযোগ করছেন তারাই এসব কাজের সাথে জাড়িত। তবে অভিযোগ বিষয়ে সরাসরি উত্তর না দিয়ে তিনি এই প্রতিবেদককে দেখা করে তার সাথে কথা বলতে বলেন।
ঠাকুরগাঁয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় ২৮ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বিকেলে পুকুরের পানিতে ডুবে সাব্বির হোসেন (১৫) নামে এক স্কুল ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
সাব্বির উপজেলার পশ্চিম সন্ধ্যারই গ্রামের আজিজুর রহমানের ছেলে এবং মীরডাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র। স্থানীয় ও পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, সাব্বির দীর্ঘদিন যাবত মানুষিক সমস্যায় ভূগছিল।
ঘটনার দিন দুপুরে সাব্বির বাড়ির পাশের একটি পুকুর পাড়ে একাই ঘুরতে গিয়েছিল। বিকেল ৩টা পর্যন্ত সে বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন তাকে খোঁজাখুঁজি করে। তারা এক পর্যায়ে না সাব্বিরের পায়ের জুতা পুকুরের পাড়ে পড়ে থাকতে দেখে। ওই পুকুরে লোকজন ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় প্রায় ঘন্টা খানেক খোঁজাখুঁজি করে সাব্বিরের লাশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
ধারনা করা হচ্ছে পুকুরে নেমেই সাব্বির পানিতে তলিয়ে গেলে তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জমিরুল ইসলাম এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ না থাকায় লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।