মাগুরা জেলার শ্রীপুর সরকারি কলেজ ও অধ্যক্ষকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ভিডিও।

Loading

আশরাফ হোসেন পল্টু,মাগুরা প্রতিনিধি ঃ মাগুরার জেলার ঐতিহ্যবাহী শ্রীপুর সরকারি কলেজ এবং কলেজ অধ্যক্ষ নির্মল কুমার সাহার বিরুদ্ধে একটি স্বার্থান্বেষী মহল গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে ।

কলেজের কর্তব্যরত অধ্যক্ষ নির্মল কুমার সাহা লিখিত ও ভিডিও বক্তব্যে অভিযোগ করে বলেন, যে অত্র কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে সাবেক শিক্ষক মোঃ আবু বকর,মোঃ সাইদুর রহমান ও কলেজের বর্তমান কর্মরত শিক্ষক আব্দুল আলীম মিয়া একের পর এক আদালতে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা করে অহেতুক নাজেহাল করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে । অধ্যক্ষ জানান, কলেজ প্রদত্ত বকেয়া অর্থ দাবি করে ২০১৫ সালে সাবেক উপাধক্ষ্য মোহাম্মদ আলী,আবু বকর,মোঃ সাইদুর রহমান বাদী হয়ে অধ্যক্ষ নির্মল কুমার সাহার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন এবং কলেজটি যাতে জাতীয়করণ না হয় সে বিষয়টিও এজাহারে উল্লেখ করা হয় ।

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ থাকাকালীন সময়ে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারিগণ সরকারিভাবে শতভাগ বেতন পাওয়ার সুযোগ ছিল যেকারনেই ২৪/০১/২০০৯ তারিখে গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত মোতাবেক শিক্ষকদেরকে কলেজের নিজস্ব তহবিল থেকে বকেয়া বেতন প্রদান করা হবেনা মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহিত হয় । অথচ অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী অবসরের যাওয়ার পরপরই ষড়যন্ত্র করে আদালতে মামলা ঠুকে দেন। তিনি শুধুমাত্র মামলা করেই ক্ষ্যান্ত হননি বরং মাউশি’র ডিজিসহ বিভিন্ন দপ্তরে বর্তমান অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। গভনিং বডির সিদ্ধান্ত মোতাবেক সরকারি অর্থায়নে একাডেমিক ভবন নির্মানের জায়গা থেকে কিছু গাছ কেটে শিক্ষার্থীদের জন্য বেঞ্চ,শিক্ষকদের জন্য চেয়ারসহ বিভিন্ন ধরনের ফার্নিচার তৈরী করা হলেও অভিযোগ করা হয় যে, কলেজ ক্যাম্পাস থেকে গাছ কেটে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে । দায়িত্বে থাকাকালীন অবস্থায় সকল প্রকার নিয়মনীতি মেনেই গভর্নিং বডি অধ্যক্ষ নির্মল কুমার সাহাকে নিয়োগপত্র দান করেন ।

বৈধভাবে অধ্যক্ষ নির্মল কুমার সাহা নিয়োগপ্রাপ্ত হলেও সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী গংগণ থেমে নেই বরং অভিযোগ করেই চলেছেন । এসব অভিযোগের ভিত্তিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর বিষয়টি তদন্ত করে দেখেছেন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ প্রমানিত হয়নি মর্মে অভিযোগকারীদের চিঠি দেওয়া হয় । গত ৪ আগস্ট মাগুরা আদালতে একই ধরনের অভিযোগ এনে মোহাম্মদ আলী গংগণ বর্তমান অধ্যক্ষ নির্মল কুমার সাহা যেন আত্তীকৃত না হতে পারে,সে মর্মে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। খোজ খবর নিয়ে জানা যায়,এ মামলার বাদীর সাথে যোগসাজসে রয়েছেন অত্র কলেজের এক শিক্ষক মোঃ আব্দুল আলীম মিয়া। তিনি বর্তমানে কলেজে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত থাকলেও বিরোধী পক্ষের সাথে আতাত করে কলেজ অধ্যক্ষের সকল প্রকার গোপন তথ্য শত্রæপক্ষের কাছে প্রচারসহ মামলার সকল কাজে সর্বাত্বক সহযোগিতা করছে। গত ২৫ আগস্ট ছিল ঔই মামলার শুনানির দিন ।

কলেেেজর অধ্যক্ষ,শিক্ষকসহ ছয় সদস্যদ্যের একটি টিম মাগুরা আদালতে যাত্রা করেন । এমন সময় তারা দেখতে পান কলেজের ঔই শিক্ষক মোঃ আব্দুল আলীম মিয়া একটি ফাইল নিয়ে কলেজের প্রধান ফটকের সামনে রানা ফটোস্ট্যাটে কাজ করাচ্ছেন । এমতাবস্থায় কলেজের কয়েকজন শিক্ষক তার কাছে যেয়ে দেখতে পান অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে দায়েরকৃত অভিযোগপত্রসহ অধ্যক্ষের বিভিন্ন ধরনের কাগজপত্র । যা তার কাছে থাকা আদৌও বৈধ নয় । বিষয়টি অধ্যক্ষ জানার পর তাকে কলেজে আসার জন্য বলেন কিন্ত তিনি আসতে রাজি হননি । পরে অধ্যক্ষ ফাইলটি তার কাছ থেকে নিয়ে নেন এবং শ্রীপুর থানা পুলিশকে ফোন করেন ।

পুলিশকে ফোন করা দেখে উক্ত শিক্ষক দৌড়ে পালিয়ে যান । এরপর অধ্যক্ষ নির্মল কুমার সাহা,উপাধক্ষ্যসহ অন্যান্য শিক্ষকগণ ফাইলের কাগজগুলি যাচাই-বাছাই দেখেন শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যে অভিযোগটি তিনি করেছেন তা মিথ্যা,বানোয়াট ও ভিত্তিহীন । তিনি জাল জালিয়াতের আশ্রয় নিয়ে নিজের সাক্ষর বাদে ৩২ জন শিক্ষকের নামের সাক্ষর একই কলম দিয়ে নিজ হাতে জাল সাক্ষর করে অভিযোগ দায়ের করেছেন । এঘটনায় ২৫ আগস্ট কলেজের টিচার্স কাউন্সিলের মিটিংয়ে তার বিরূদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহনের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয় । এরপর উক্ত শিক্ষক আব্দুল আলীম মিয়া কলেজে অনুপস্থিত রয়েছেন এবং তার অপকর্ম ঢাকতে অধ্যক্ষ নির্মল কুমার সাহাকে আসামী করে মাগুরা আদালতে মামলা করেন ।

বিজ্ঞ আদালত তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ওসি শ্রীপুর থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন। উক্ত শিক্ষকের এহেন কর্মকান্ডে এলাকার লোকজন তীব্র নিন্দার প্রকাশ করছে ।