বিএনপি মদ-জুয়া-ক্যাসিনো চালু করেছিল, শেখ হাসিনা বন্ধ করছেন- তথ্যমন্ত্রী ।

Loading

মীর আকরাম উদ্দীন আহম্মদ সিনিয়র তথ্য অফিসার ঃ বিএনপি-জামাত তাদের অামলে মদ-জুয়া-ক্যাসিনো চালু করেছিল, দেশকে জঙ্গিদের অভয়ারণ্য বানিয়েছিল, আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কঠোর হাতে সেসব বন্ধ ও দমন করছেন।

শুক্রবার ২৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে ইউনাইটেড ইসলামিক পার্টি আয়োজিত আলেম, ওলামা ও মাশায়েখবৃন্দের জঙ্গিবাদবিরোধী মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন।

আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু যে মদ জুয়া নিষিদ্ধ করেছিলেন, জিয়াউর রহমান তা চালু করেন, চালু হয় ক্যাসিনো। আজ যারা ক্যাসিনো চালাচ্ছে তারা যেমন দায় এড়াতে পারেনা, তেমনি যারা তা চালু করেছিল, তাদেরো বিচার হওয়া প্রয়োজন।

এসময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, কথা না বলে আপনাদের যেসব নেতা ক্যাসিনো চালু করেছিল, তাদের নানা পদ থেকে সরান, বহিস্কার করুন, তারপর কথা বলুন।

বিএনপির বিরুদ্ধে জঙ্গিমদদের অভিযোগ এনে মন্ত্রী বলেন, বেগম খালেদা জিয়া- জামাতের আমলে বাংলাদেশকে জঙ্গিদের অভরায়ণ্য বাননো হয়েছিল। শায়খ আব্দুর রহমান, বাংলা ভাইয়ের উত্থান, সারাদেশে ৬৪ জেলায় একযোগে বোমা হামলা, আদালতে বোমা, জননেত্রী শেখ হাসিনার জীবননাশের জন্য রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলা- সবই তাদের ছত্রছায়ায় হয়েছে।

বেগম জিয়া ইসলামের কথা বলে শুধু ভোট নিয়েছেন, ইসলামের কোন কাজ করেননি, আর অপরদিকে শেখ হাসিনাই প্রথম এদেশের ওলামাদের একশ’ বছরের পুরনো দাবি কওমী মাদ্রাসার স্বীকৃতি দিয়েছেন, যা বৃটিশ এবং পাকিস্তানি আমল থেকে দাবিকৃত, উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার সরকার ৭০ হাজার মক্তব স্থাপন করে সেখানে ওলামাদের নিয়োগ দিয়েছে, প্রতিটি উপজেলায় ১২ থেকে ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে মসজিদ নির্মাণ হচ্ছে। এসব কাজ কেউ আগে করেনি।

তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পূর্বপুরুষ বাগদাদ থেকে এদেশে ধর্মপ্রচারের জন্য এসেছিলেন। ইসলামী লেবাসও বেগম জিয়ার মধ্যে নয়, শেখ হাসিনার মধ্যেই দেখা যায়।

মন্ত্রী বলেন, ইসলাম সন্ত্রাস বা জঙ্গিবাদ সমর্থন করেনা। ইসলাম শান্তির ধর্ম। মহানবী মুহাম্মদ সাঃ তরবারির নিচে নয়, শান্তির সুশীতল ছায়াতলে মানুষকে আহবান করে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেছেন। বাংলাদেশসহ এ উপমহাদেশেও কোনো যুদ্ধ বিগ্রহের মাধ্যমে নয়, ওলী-আকরামদের আহবানে সাড়া দিয়ে মানুষ ইসলামের সুশীতল ছায়ায় এসেছে।

যারা ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে আমাদের কোমলমতি সন্তানদের বিপথে নেবার অপচেষ্টায় লিপ্ত, তারা শুধু সমাজেরই ক্ষতি করছেনা, ইসলামের গায়েও কালিমা লেপন করছে, বলেন তিনি।

কোনো ধর্মই জঙ্গিবাদ সমর্থন করে না উল্লেখ করে ড. হাছান বলেন, নাথুরাম গডসে’র হাতে মহাত্মা গান্ধীর বা ইহুদি সন্ত্রাসীর হাতে ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আইজ্যাক রবিনের খুন হওয়ার জঙ্গিবাদী ঘটনাও কোন ধর্ম সমর্থন করে না।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই প্রথম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বলেন, জঙ্গিবাদকে ইসলামী জঙ্গিবাদ বলবেন না, ইসলাম জঙ্গিবাদ সমর্থন করে না। তিনি বিরোধীদলীয় নেতা থাকা অবস্থায়ই বিশ্বের মানুষের কাছে এই সত্য তুলে ধরেছেন।

বাংলাদেশ ইউনাইটেড ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান মাওলানা ইসমাইল হোসাইনের সভাপতিত্বে সমাবেশে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ অাওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে অালম মুরাদ, ডিবিসি ২৪ টিভি চ্যানেলের চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরী, বাংলাদেশে ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব শাবান মাহমুদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

দৈনিক সমকাল’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তথ্যমন্ত্রী

এর অাগে সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে দৈনিক সমকাল পত্রিকার ১৫ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে অায়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

সংবাদপত্রকে সমাজের দর্পণ হিসেবে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের৷অসম্প্রদায়িক চেতনাকে সমুন্নত রেখে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে ২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে একটি উন্নত সমৃদ্ধ দেশে রূপান্তরের স্বপ্নের ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সমকাল ভবিষ্যতেও অনবদ্য ভূমিকা রাখবে।

সমকাল পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি’র সঞ্চলনায় অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী অাবদুর রাজ্জাক, অাওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট সি ডিকসন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. অা অা ম স অারেফিন সিদ্দিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যামিরেটাস অধ্যাপক ড. অানিসুজ্জামান এবং সমকালের প্রকাশক এ কে অাজাদ বক্তব্য রাখেন।