সাভারে সন্ত্রাসী স্টাইলে হাটের দরপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, আটক ৩

Loading

সাভার,প্রতিনিধিঃ সাভার উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ইজারার দরপত্রের শিডিউল জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে উপজেলা চত্তরে বিভিন্ন পক্ষের হাতাহাতি, টানাহেঁচড়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রাথমিকভাবে ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার (১০ মার্চ) সকালে পুর্ব ঘোষিত তারিখ অনুযায়ী উপজেলার বিভিন্ন নেতা নেত্রীরা দরপত্র জমা দিতে আসলে এ ঘটনা ঘটে। এঘটনায় ৪ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে তাদের পরিচয় পাওয়া যায় নি।

আটককৃতরা হলো – পাভেল, ছাত্রলীগ নেতা লুৎফর ও ওমর। উপজেলা ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আটককৃতরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল থেকেই দরপত্র জমা দেওয়ার জন্য উপজেলার বিভিন্ন নেতা নেত্রীরা উপজেলা চত্তরে জমা হতে থাকেন। সকাল ১১ টার দিকে আশুলিয়া হাটের দরপত্রের সিডিউল জমা দিতে আসেন আশুলিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আনোয়ার মন্ডল। এসময় তাকে একটি পক্ষ বাধা দেয় ও লাঞ্চিত করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে পুলিশের সহায়তায় তার শিডিউলটি জমা দেন তিনি।

দ্বিতীয় দফায় আশুলিয়ার গিয়াস উদ্দিন মোল্লা নামের এক ব্যক্তি টেন্ডারের সিডিউল জমা দিতে আসেন। এসময় একই পক্ষ তার দরপত্রের সিডিউল ছিনিয়ে নেয় এবং ছিড়ে ফেলেন বলে দাবি করেন গিয়াস উদ্দিন মোল্লা। এসময় দুই পক্ষের হাতাহাতি ও টানাহেঁচড়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ এগিয়ে আসলে পুলিশের সাথেও টানাহেঁচড়ার ঘটনা ঘটে। এসময় পুলিশের অন্যান্য সদস্যরা এগিয়ে এসে ৩ জনকে আটক করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এব্যাপারে আশুলিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আনোয়ার মন্ডল বলেন, আমি শিডিউল জমা দেওয়ার সময় সাভার উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আতিক, ছাত্রলীগের টিপু, আশুলিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শাহাবউদ্দিনের ছেলে আমাকে বাঁধা দেয়। পরে পুলিশের সহায়তায় আমি শিডিউল জমা দিয়ে চলে আসি।

গিয়াসউদ্দিন মোল্লা বলেন, আমি শিডিউল জমা দিতে পারি নি। আমি উপজেলায় এখনও আছি একটু পরে ফোন দিয়ে বিস্তারিত জানাবো।

এব্যাপারে সাভার উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আতিক বলেন, এধরনের অভিযোগ ভুল ভাই ! এখানে ছাত্রলীগের কোন স্বার্থ নেই। আমি ওখানে ছিলাম না, আর আমি জড়িতও না। পাভেল নামের নেতাকে আটকের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, পাভেল নামের একজন সম্পর্কে আমি জানি, তিনি যুবলীগ করেন।

সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক এস আই সাদরুজ্জামান জানান, পরিস্থিতি ঠান্ডা রাখার জন্য ৩ জনকে আটক করে থানায় পাঠানো হয়েছে।

সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আরা নিপা বলেন, এখানে আনছার, পুলিশ এবং র‌্যাবের সদস্যরা রয়েছেন। স্বতঃস্ফূর্তভাবে সবাই যেন মুক্তভাবে শিডিউল জমা দিতে পারে, এজন্য সেখানে প্রশাসন ছিল। পার্টিসিপেন্ট (অংশগ্রহণকারী) অনেক বেশি হওয়ার কারনে এসব ঝামেলার কথা শুনছেন। তিনি আরো বলেন, এরকম একটা অভিযোগ আমার কাছেও এসেছে। যেহেতু টেন্ডার জমা দেওয়ার সময় ছিল ১ টা পর্যন্ত ,তাই নতুন করে টেন্ডার জমা দেওয়ার সুযোগ নেই। অলরেডি ক্লোজ (বন্ধ হয়েছে) হয়েছে। যা তিনটায় ওপেন (খোলা)  হবে। আটকের ব্যাপারে তিনি বলেন, পরিস্থিতি শান্ত রাখার জন্য হয়তো আটক করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সাভার উপজেলার মোট ১১ টি হাট বাজার ও ১ টি ঘাটের দরপত্রের শিডিউল আহবান করে উপজেলা পরিষদ। দরপত্রের শিডিউল জমা দেওয়ার তারিখ ধার্য্য করা হয় বুধবার ১০ মার্চ।