27.7 C
Dhaka, BD
সোমবার, জুন ২৯, ২০২৬

ঠাকুরগাঁওয়ে র‌্যাফেল ড্র’র ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছে লাখ লাখ মানুষ ।

ঠাকুরগাঁওয়ে র‌্যাফেল ড্র’র ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছে লাখ লাখ মানুষ গ্রামের অলিগলি, শহর, হাট-বাজারগুলোতে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে ‘মাথাই নষ্ট মামা। প্রতিদিন কয়েকটি দামি মোটরসাইকেলসহ কয়েক লাখ টাকার পুরস্কার। ভাগ্যে থাকলে আপনিও পেয়ে যেতে পারেন লোভনীয় পুরস্কার। ’র‌্যাফল ড্র’র টিকিট বিক্রির জন্য এভাবে মাইকিং করা হচ্ছে।

র‌্যাফেল ড্র’র প্রতারণা চলছে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায়। মানুষকে পুরস্কার জেতার স্বপ্ন দেখাচ্ছে আনন্দমেলার আয়োজকেরা। নিম্ন আয়ের মানুষ ও শিক্ষার্থীরা সহজেই তাদের এই ফাঁদে পা দিচ্ছে।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার পাড়িয়া ইউনিয়নের বহমতোল এলাকায় গত ১৫ জানুয়ারি থেকে চলছে আনন্দমেলা। ২৩ জানুয়ারি থেকে ওই মেলায় শুরু হয়েছে র‌্যাফল ড্র। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘দৈনিক সবুজ বাংলা র‌্যাফল ড্র’।

মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ভাঙিয়ে মেলার আয়োজক স্থানীয় একদল তরুণ। আয়োজকেরা দিনের বেলা মূল্যবান ও আকর্ষণীয় পুরস্কার দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মাইকিং করছে। রাতের বেলা ড্রয়ে কিছু না জুটলেও দমছে না তারা।

ভাগ্য জয়ের আশায় আবারও টিকিট কিনছে মানুষ। এভাবে যত টিকিট বিক্রি হচ্ছে, তত পকেট ভারী হচ্ছে আয়োজকদের। এতে পকেট খালি হচ্ছে সাধারণ মানুষের। বৃহস্পতিবার রাত থেকে এখানে হাউজির নামে জুয়া খেলা শুরু করার চেষ্টা চালাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। মেলায় হাউজির জন্য বানানো হয়েছে প্যান্ডেলও।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুস সোবহান বলেন, মেলায় মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

জেলা প্রশাসন বলছে, তারা বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার পাড়িয়া ইউনিয়নের বহমতোল এলাকায় ২২ জানুয়ারি হতে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১৮ দিনের জন্য শুধু গ্রামীণ শিল্পসামগ্রী মেলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের র‌্যাফল ড্র বা হাউজির অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম বলেন, সাধারণত মেলায় হাউজি-র‌্যাফল ড্রয়ের অনুমতি দেওয়া হয় না। লাহিড়ীহাট মেলায়ও দেওয়া হয়নি। এরপরও খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার মেলা চত্বরে গিয়ে দেখা গেছে, মেলায় চার-পাঁচটি দোকান বসানো হয়েছে। বিনোদনের জন্য বসানো হয়েছে সোনালী অপরো নামে একটি যাত্রার প্যান্ডেল। পাশে রয়েছে ‘৩টি’ ভ্যারাইটিজ সার্কাসের প্যান্ডেল। যেগুলোতে নিয়মিত দেখানো হচ্ছে অশ্লীল নৃত্য। তবে মেলায় র‌্যাফল ড্র আর হাউজিই মূল আকর্ষণ।

স্থানীয় লোকজন বলেন, র‌্যাফল ড্রয়ের প্রতিটি টিকিটের দাম ২০ টাকা। টিকিট বিক্রি করতে প্রতিদিন সকালে মেলা চত্বর থেকে ১৫০টিরও বেশি ইজিবাইক ছুটছে উপজেলা সদরসহ আশপাশের উপজেলার বিভিন্ন স্থানে। প্রতিদিন অন্তত ৫০ থেকে ৬০ হাজার টিকিট বিক্রি হয়। সে হিসাবে প্রতিদিন ৭ থেকে ১১ লাখ টাকার টিকিট বিক্রি হয়। রাত সাড়ে ১০টায় শুরু হয় র‌্যাফল ড্র। র‌্যাফেল ড্র সরাসরি স্থানীয় ক্যাবল টিভিতে সম্প্রচার করা হচ্ছে।

জানা গেছে, র‌্যাফল ড্র’র দামি পুরস্কার হিসেবে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের তিনটি মোটরসাইকেল দেওয়া হয়। ওই তিনটি মোটরসাইকেলের দাম পড়ে সর্বোচ্চ ৪ লাখ টাকা। অন্যান্য পুরস্কারের মধ্যে আছে বাইসাইকেল, শাড়ি, লুঙ্গি, মুঠোফোন, বৈদ্যুতিক পাখা প্রভৃতি। এসব কিনতে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার মতো খরচ হয়। সে হিসাবে মেলার র‌্যাফল ড্র’র পেছনে আয়োজকদের খরচ সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা। সে অনুযায়ী সব খরচ বাদে আয়োজকদের প্রতিদিন ৩-৪ লাখ টাকা লাভ হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার চৌরাস্তা বাজারে ইজিবাইকে করে র‌্যাফল ড্র’র টিকিট বিক্রি করছিলেন রশিদুল ইসলাম। তিনি তালিকা দেখিয়ে বলেন, ‘আজকে (বৃহস্পতিবার) পুরস্কার হিসেবে থাকবে দামি দামি পুরস্কারসহ ৩টি মোটরসাইকেল।

গত বুধবার প্রথম পুরস্কার ১টি মোটরসাইকেল ও শেষে ১টি মোটরসাইকেলসহ ৪৫টি পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পুরস্কারের সংখ্যা বাড়বে। প্রতিদিন তিনি ইজিবাইকে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে আড়াই থেকে চার হাজার টিকিট বিক্রি করেন।

কালমেঘ হাট এলাকায় ভ্যান চালিয়ে সংসার চালান সাইদুর রহমান। বৃহস্পতিবার মেলা প্রাঙ্গণের সামনে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘মেলায় র‌্যাফেল ড্র শুরুর দিন থেকে প্রতিদিন ১০টা করে টিকিট কিনেছু। প্রতিদিন তিনটা মোটরসাইকেলসহ ৪৫টা পুরস্কার দিলেও মোর ভাগ্যে কিচ্ছু জুটিলনি। এ পর্যন্ত প্রায় ১৬০০ টাকার টিকিট কিনছু। ’

গত বৃহস্পতিবার রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা ইজিবাইক থেকে টিকিট কিনছিল পাড়িয়া এলাকার স্কুলশিক্ষার্থী আব্দুল্লাহি সাফি। সাফি জানায় ‘প্রতিদিন পরিবারের সকলে ১টি করে মোট ৫টি টিকিট কিনছি, তবে পুরস্কার পাইনি’।

বাদামবাড়ী হাট এলাকার বাসিন্দাশরিফুল ইসলাম বলেন, ‘পুরস্কারের লোভে দিন এনে দিন খাওয়া মানুষেরা তাদের আয়ের বড় অংশ লটারির টিকিট কিনে শেষ করছে। এমনকি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা পর্যন্ত বাড়ি থেকে চুরি করে টাকা নিয়ে সেই টাকায় লটারি কিনছে। ’

উল্লেখ, মেলা ও র‌্যাফেল ড্র কেন্দ্রে করে ইতোমধ্যে পাড়িয়া বাজারে সাধারণ মানুষ ও মেলা কমিটির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। এতে হামিদুর রহমান নামের একজন লোকের পা ভেঙেছে এবং তার ছেলে লাল চান গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে বালিয়াডাঙ্গী হাপসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

বালিয়াডাঙ্গী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করলেও কোনো পক্ষই অভিযোগ দেয়নি বলে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি মোসাব্বেরুল হক।

সিঙ্গাপুর থেকে স্বামীর পাঠানো ৪৫ লক্ষ টাকা আত্মসাত – শিবগঞ্জ সেলিমাবাদের মেয়ে হিরা .

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে এক প্রবাসীর কাছ থেকে প্রায় ৪৫ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে এক স্কুল শিক্ষিকার বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত ওই স্কুল শিক্ষিকা হলেন- শিবগঞ্জ পৌর এলাকার সেলিমাবাদ গ্রামের আবদুর রহিমের মেয়ে মোসা. হিরা খাতুন ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা।

এ নিয়ে ভূক্তভোগীর মা মোসা. জায়েদা বেগম বাদি হয়ে বিজ্ঞ আমলী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বাদির কৌসুলী অ্যাডভোকেট ড. তসিকুল ইসলাম।

মামলার এজাহার সূত্রে জানাগেছে- শিবগঞ্জ উপজেলার কালুপুর এলাকার আসাদুর রহমানের ছেলে কামরুজ্জামান প্রায় ১৩ বছর ধরে সিঙ্গাপুরের একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন। প্রবাসে চাকুরি করার সুবাদে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা মোসা. হিরা খাতুন তার নিজ স্বামী ও এক সন্তানের কথা গোপন রেখে কুমারি পরিচয় দিয়ে প্রবাসী কামরুজ্জামানের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক শুরু করেন। তবে প্রবাসী কামরুজ্জামান ওই স্কুল শিক্ষিকার স্বামী ও সন্তানের বিষয়টি জানতেন না।

এক পর্যায়ে ওই স্কুল শিক্ষিকা হিরা খাতুন প্রবাসী কামরুজ্জামানকে ২০০৬ সালে বিয়ে করেন। বিয়ের কিছুদিন পর হিরা খাতুনকে রেখে কাজের সন্ধানে আবার সিঙ্গাপুরে চলে যান কামরুজ্জামান। এরপর প্রবাসী কামরুজ্জামানের কাছ থেকে দফায় দফায় প্রায় ৪৫ লাখ টাকা ও তিনশত গ্রাম ওজনের স্বর্ণলংকার হাতিয়ে নিয়ে কামরুজ্জামানের পরিবারের কাছে ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে তালাকনামা পাঠিয়ে দেয় ওই স্কুল শিক্ষিকা হিরা খাতুন।

পরে ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে সমাধানের লক্ষে একটি শালিস বৈঠকে ওই স্কুল শিক্ষিকা কামরুজ্জামানের কাছে প্রায় ৪৫ লাখ ও তিনশত গ্রাম ওজনের স্বর্ণলংকার হাতিয়ে নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন হিরা খাতুন।

পরে স্কুল শিক্ষিকার বাসায় ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা প্রায় ৪৫ লাখ টাকা ও তিনশত গ্রাম ওজনের স্বর্ণলংকার চাইতে গেলে হত্যার হুমকি প্রদান করেন স্কুল শিক্ষিকা হিরা খাতুন।

এ দিকে ভূক্তভোগী কামরুজ্জামানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন- বিয়ের পর থেকেই হিরা খাতুন আমাদের যৌথ পরিবারের সঙ্গে থাকতে চাইতেন না। এরপরও হিরা খাতুনের কথামত পিতার বাড়ি ত্যাগ করে তিনি ভাড়া বাসায় উঠেন। বিয়ের কিছুদিন পর হিরা খাতুনকে রেখে তিনি আবার কাজের সন্ধানে সিঙ্গাপুরে চলে যান।

গত ২০১০ সালে প্রায় ২ লাখ টাকা ব্যয় করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে হিরা খাতুনকে সহকারি শিক্ষক পদে চাকুরির জন্য সহায়তা প্রদান করেন। পরে হিরা খাতুনের ব্যাংক একাউন্টে দফায় দফায় প্রায় ৪৫ লাখ টাকা প্রদান করেন।

তিনি আরও বলেন, আমি এখন বড় নি:স্ব হয়ে পড়েছি। সিঙ্গাপুরের কষ্টার্জিত সবকিছু হাতিয়ে নিয়ে হিরা খাতুন আমাকে পথে বসিয়েছে। তালাকনামা দেয়ার বিষয়ে ভূক্তভোগী কামরুজ্জামান বলেন, ওই একই স্কুলের শিক্ষক আবদুল হান্নানের সঙ্গে হিরা খাতুন পরকীয়ার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে ভূক্তভোগী কামরুজ্জামানের মা মোসা. জায়েদা বেগম বাদি হয়ে টাকা আত্মসাত, প্রতারণা ও ভয়ভীতির অভিযোগ এনে হিরা খাতুন ও তার ভাই-বোন এবং বাবাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আমলী আদালতে মামলা (সিআর ৩০/২০১৯) দায়ের করেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত স্কুল শিক্ষিকা মোসা. হিরা খাতুনের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ঠাকুরগাঁওয়ে ট্রাকচাপায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন।

ঠাকুরগাঁওয়ে ট্রাকচাপায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন।

শনিবার সকালে সদর উপজেলার ২৯ মাইল নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। ঠাকুরগাঁও ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মফিদার রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহতরা হলেন, আউলিয়াপুর ইউনিয়নের পেয়ারিগাঁও গ্রামের মৃত অনন্দ বর্মণের ছেলে পরেশ চন্দ্র বর্মণ (৫০) ও তার সঙ্গে থাকা শহরের ইসলামবাগ এলাকার মৃত মুসলিম উদ্দিনের ছেলে জিয়ন (৪৫)।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, সকালে ওই দু’জন মোটরসাইকেলে ঠাকুরগাঁও থেকে তাদের কর্মসংস্থলে (রংপুরে) যাওয়ার উদ্দেশে রাওনা হন। পথে ২৯ মাইল নামক স্থানে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক তাদের চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই পরেশ নিহত হন। উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতাল নেয়ার পথে মারা যান।

এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সদর থানার ওসি আশিকুর রহমান জানান, এ ঘটনায় সদর থানায় একটি ইউডি মামলা করা হয়েছে। ঘাতক ট্রাকটিকে সনাক্ত করতে পুলিশ তদন্ত করছে।

সুন্দরগঞ্জে কলেজ পড়ুয়া ছাএের আত্মহত্যা

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হাসানগঞ্জ দেওডোবা গ্রামে শয়নঘরের ধর্ণার সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে নাজমুল ইসলাম (১৮) নামে এক কলেজ ছাত্র আত্মহত্যা করেছে।

স্থানীয়রা জানান, শনিবার সকালে উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের দেওডোবা গ্রামের (হাসানগঞ্জ রেলওয়েষ্টেশন সংলগ্ন) আনোয়ারুল ইসলামের পুত্র ও শেখ খবির উদ্দীন কলেজে অধ্যয়নরত দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র নাজমুল ইসলাম প্রেম সংগঠিত কারণে পরিবারের সবার অলক্ষ্যে আত্মহত্যা করেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে থানা অফিসার ইনচার্জ- এসএম আব্দুস সোবহান ঘটনাস্থল পরিদর্শন পূর্বক জানান, এ ব্যাপারে নাজমুলের পিতা আনোয়ারুল ইসলাম থানায় একটি ইউডি মামলা করেছেন।

শিবগঞ্জে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ৭৬৪৪ পরীক্ষার্থী -১৪৪ ধারা জারি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি কেন্দ্রের চলতি বছরে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায়অংশ নিচ্ছে ৭ হাজার ৬শ’ ৪৪ জন পরীক্ষার্থী।

এর মধ্যে তিনটি কেন্দ্র শিবগঞ্জ সরকারি মডেল হাই স্কুল, কানসাটউচ্চ বিদ্যালয় ও দাদনচক এইচ এম উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫ হাজার ৭শ’ ৯৫ জন পরীক্ষার্থীঅংশ নিচ্ছে এবং দাখিল পরীক্ষায় শিবগঞ্জ ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে অংশ নিচ্ছে ১ হাজার ৬শ’ ১৬জন পরীক্ষার্থী।

অন্যদিকে ভোকেশনাল পরীক্ষা কেন্দ্রে ২৩৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রসচিবরা জানিয়েছেন- শনিবার সকাল থেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা শুরু হবে। পরীক্ষা গ্রহণেরসকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় প্রশাসন এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষানকলমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের লক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এছাড়া পরীক্ষা কেন্দ্রেরআশপাশে ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

বাণিজ্য মেলায় প্রতিবন্ধিদের জন্য বিনামূল্যে বিনোদনের সুযোগ ।

বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তনয়া বিশিষ্ট মনোবিজ্ঞানী সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের অনুপ্রেরণায় ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় প্রতিবারের মত এবারও অটিজম ও প্রতিবন্ধিদের জন্য বিনামূল্যে বিনোদনের সুযোগ করে দিয়েছে সারিকা ফ্যান্টাসি ইমাজিং ওয়ার্ল্ড পার্ক।
এই পার্কটির সবগুলো রাইড বিনামূল্যে উপভোগ করতে পারবে অটিজম ও প্রতিবন্ধিরা।

ইতোমধ্যে অটিজম শিশুদের বিনোদনের সুযোগ করে দিয়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এই পার্কটি। প্রতিদিনই অনেক অভিভাবক তাদের প্রতিবন্ধি শিশুদের মেলায় নিয়ে এসে বিনোদনের সুযোগ নিচ্ছেন।

ভিন্নধর্মী এ পার্কটি বাণিজ্য মেলায় ২০১২ সাল থেকে প্রতিবছর চালু রয়েছে। পার্কটির প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান পলাশ বলেন, পার্কটি চালুর পর যখন দেখলাম প্রতিবন্ধি শিশুদের কোন বিনোদনের ব্যবস্থা নেই, পার্কের কোন রাইডে উঠতে দেয়া হয় না, তখন তাদের প্রতি সহানুভূতি থেকেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করি আমি। অটিজম-প্রতিবন্ধি শিশুদের জন্য রাইডগুলো সম্পূর্ণ ফ্রি করে দেই।

মেলায় হাজার হাজার বিজ্ঞাপনের মাঝে প্রতিবন্ধিদের ফ্রি বিনোদনের বিজ্ঞাপন অনেকেরই নজর কাড়ছে। অনেকেই ভীড় জমাচ্ছেন এই পার্কে। ডা. সানজিদা ইসলাম নামের একজন অভিভাবক বলেন, আমার একটি ছেলে আছে প্রতিবন্ধি। আমি মেলা আসলে ছেলেকে বাসায় রেখে আসতাম। কারণ ছেলের বিনোদনের কিছু ছিল না।

কিন্তু সারিকা ফ্যান্টাসি ইমাজিং ওয়ার্ল্ডের এই আয়োজনের কারণে আমার ছেলেকে নিয়ে মেলায় এসেছি। অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে আমার সন্তানও কিছুটা আনন্দের সুযোগ পাচ্ছে। এ জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
পলাশের ভিন্নধর্মী আয়োজনের ব্যাপারে অনেকে যেমন উৎসাহ দিচ্ছেন ঠিক তেমনি মেলার অনেক আয়োজক ও স্টল মালিকেরা বিষয়টি পছন্দ করছেন না। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে তেমন একটা চিন্তিত নন পলাশ।

তবে সমালোচনার চাইতে সহযোগিতাই বেশি পাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। গত রোববার বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সী প্রতিবন্ধিদের জন্য ফ্রি বিনোদনের আয়োজন উদ্বোধন করেছেন। গতবছর মেলায় বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মণি পার্কে এসে অটিজম শিশুদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন। দিপু মণি শিশুদের জন্য পোষাক ও খাবারের আয়োজনও করেছিলেন। এছাড়া সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের পার্কটি পরিদর্শন করেছেন।
এই পার্কটির ভিন্নধর্মী আয়োজনে সহযোগিতা করছে গেøয়ার ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, আদি বাংলা, এশিয়ান টেক্সটাইল। মেলা চলাকালীন সময়ে অটিজম শিশুদের জন্য নানা উপহারের ব্যবস্থা করেছে এই প্রতিষ্ঠানগুলো। বিনামূল্যে অটিজম শিশুদের জন্য বিনোদনের ব্যবস্থা করায় রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো দুইবার এই পার্কটিকে পুরষ্কৃত করেছে।

ভিন্নধর্মী এ আয়োজনের প্রেরণার বিষয়ে মাহবুবুর রহমান পলাশ বলেন, আমার পার্কটিতে অটিজম-প্রতিবন্ধি শিশুদের পাশাপাশি ছিন্নমূল শিশুদের জন্য বিনোদন ফ্রি। শিশুরা বিভিন্ন রাইডে উঠতে পেরে যে নিঃষ্পাপ হাসি দেয় তখন আমার প্রাণ ভরে যায়। এজন্যই আমার আয়োজন। যতদিন পারি আমি অটিজম ও প্রতিবন্ধিদের শিশুদের জন্য কাজ করে যাব।
পলাশ বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তনয়া বিশিষ্ট মনোবিজ্ঞানি সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের অটিজমদের নিয়ে নানা কাজ আমাকে উৎসাহ প্রদান করেছে। তার কাজের প্রেরণায় আমি কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।

শনিবার, থেকে শুরু হচ্ছে ২০১৯ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষা

দেশের দশটি শিক্ষা বোর্ডে অধীনে আগামীকাল (শনিবার) থেকে শুরু হচ্ছে ২০১৯ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। পরীক্ষা চলবে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘এবারের পরীক্ষায় মোট ২১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৩৩ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবে। এর মধ্যে ছাত্র ১০ লাখ ৭০ হাজার ৪৪১ জন এবং ছাত্রী ১০ লাখ ৬৪ হাজার ৮৯২ জন। ২০১৮ সালের তুলনায় এবছর এক লাখ ৩ হাজার ৪৩৪ জন শিক্ষার্থী বেশি পরীক্ষা দেবেন। এর মধ্যে ছাত্র সংখ্যা বেড়েছে ৪৭ হাজার ২২৯ জন এবং ছাত্রী সংখ্যা বেড়েছে ৫৬ হাজার ২০৫ জন।’

এবার আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৭ লাখ ১০২ জন। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ৩ লাখ ১০ হাজার ১৭২ জন এবং কারিগরি ভোকেশনাল ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৯ জন রয়েছে। মোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৩ হাজার ৪৯৭ এবং প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২৮ হাজার ৬৮২টি। এছাড়াও বিদেশি আটটি পরীক্ষা কেন্দ্রে ৪৩৪ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে।

বরাবরের মতো এবারও প্রতিবন্ধীসহ অন্যরা ৩০ মিনিট অতিরিক্ত সময়সহ শিক্ষক, অভিভাবক, সাহায্যকারী বিশেষ সহায়তায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবে বলে সম্মেলনে জানানো হয়। এছাড়াও ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ সাইটগুলোতে নজরদারি থাকবে মনিটরিং কমিটির।

অন্য বছরের মতো এবারও সকালের পরীক্ষা সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা এবং বিকেলের পরীক্ষা দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। সব পরীক্ষার্থীকে ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করে আসন গ্রহণ করতে হবে।

পরীক্ষার ২৫ মিনিট আগে এসএমএস এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রশ্নপত্রের সেট কোড জানিয়ে দেয়া হবে। কেন্দ্র সচিব ব্যতিত (ছবি তোলা যায় না এমন ফোন) অন্য কেউ মোবাইল ফোন, ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবে না।

এছাড়াও সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মার্চ, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৬ মার্চ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ২৪ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

;

সুন্দরগঞ্জে চার ক্রিকেট বাজীকরের অর্থদন্ড ।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ৪ ক্রিকেট বাজীকরের প্রত্যেকের ১ হাজার করে ৪ হাজার টাকা অর্থদন্ডাদেশ দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালত।

জানা যায় , বৃহস্পতিবার রাতে ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা  নির্বাহী অফিসার     মোঃ সোলেমান আলী ভ্রম্যমান আদালতের মাধ্যমে এ অর্থদন্ডাদেশ প্রদান করেন।

এরআগে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার ডোমেরহাঠ নামক বাজার থেকে ৪ বাজীকরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। দন্ডিতরা সকলেই উপজেলার রামজীবন ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। এরা হলো- রামজীবন ইউনিয়নের সূর্বনদহ গ্রামের মফিজুল হক, জহুরুল ইসলাম, নিজপাড়া গ্রামের আলম মিয়া ও মহসিন আলী। থানা অফিসার ইনচার্জ এসএম আব্দুস সোবহান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সাভারের শ্যালমাসী লুটেরচর এলাকায় গ্রামীণ পরিবেশে ক্রীড়া-প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠান ।

সাভারে গ্রামীণ পরিবেশে ক্রীড়া-প্রতিযোগীতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাভার উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল ভাকুর্তা ইউপির শ্যালমাসী লুটেরচর গ্রামে এ অনুষ্ঠান হয়। মর্নিং গ্লোরি একাডেমী উদ্যোগে এর আয়োজন করা হয়।

৫ম বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতায় অংশ নেয় শিশু-কিশোর সহ বয়স বৃদ্ধরা। মনোজ্ঞ নৃত্য, হাড়িভাঙ্গা,বালিশ কুড়ানো,ছোট নাট্য সহ গ্রামগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী খেলা ছিল উল্লেখ্যযোগ্য। মনিং গ্লোরি একাডেমীর সভাপতি জয়নাল আবেদীনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা জেলা উওর এর সেচ্ছসেবক লীগের সহ-সভাপতি হাজী মিজানূর রহমান( মিজান)।

বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা জেলা মুক্তি যোদ্ধা সাবেক কমান্ডার মফিজ উদ্দিন আহমেদ। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো নতুন প্রজম্মের কাছে তুলে ধরাই ছিল অনুষ্ঠানের মূল-লক্ষ্য। অনেকের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দারুল আরকাম হাবীবিয়া মাদ্রাসার সভাপতি হাজী নুরুল মোমেন,স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ইসতিয়াক আহমেদ রাজিব,প্রাধান শিক্ষক ফারুক আহমেদ সহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিরা।

দিন ব্যাপী এ অনুষ্ঠানকে ঘিরে গ্রাম বাংলার নারী-পুরুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ আনুমানিক ১ কোটি ৫লাখ টাকার হেরোইন সহ এক জন আটক ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের দ্বারিয়াপুর এলাকায় বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে কোটি টাকা মূল্যের ১ কেজি ৫০ গ্রাম হেরোইনসহ মনিরুল ইসলাম (৫০) নামে এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে র‌্যাব। আটককৃত মনিরুল ইসলাম চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার বেলেপুকুরের সাইদুর রহমানের ছেলে।

র‌্যাব-৫ এর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ র‌্যাব ক্যাম্পের একটি দল বৃহস্পতিবার রাত পৌনে একটার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের দ্বারিয়াপুর এলাকায় ট্রাক টর্মিনালের সামনে রাজশাহীগামী একটি ট্রাকে তল্লাশি চালায়। এসময় ট্রাকের কেবিনের ভিতরে একটি শপিং ব্যাগের ভিতরে রাখা ১ কেজি ৫০ গ্রাম হেরোইনসহ মনিরুল ইসলামকে আটক করা হয়।

উদ্বারকৃত হেরোইনের আনুমানিক বাজার মূল্য ১ কোটি ৫লাখ টাকা। এ ঘটনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেট...